অফ-রোড বা অ্যাডভেঞ্চার ঘরানার মোটরসাইকেল প্রেমীদের জন্য বড় চমক নিয়ে আসছে ভারতীয় অটোমোবাইল জায়ান্ট বাজাজ। বাজাজ গ্রুপের অধীনে কেটিএম বা ট্রায়াম্ফের মতো ব্র্যান্ডের অ্যাডভেঞ্চার বাইক থাকলেও, বাজাজের নিজস্ব পোর্টফোলিওতে এতদিন কোনো প্রপার অফ-রোড বাইক ছিল না। তবে এবার হিরো এক্সপালস (Hero Xpulse)-এর একচ্ছত্র আধিপত্যে হানা দিতে সম্পূর্ণ নতুন একটি ব্র্যান্ডের অধীনে নতুন ডুয়াল-স্পোর্ট মোটরসাইকেল বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি ভারতের সড়কে ছদ্মবেশে বাজাজের নতুন এই মোটরসাইকেলটির টেস্টিংয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বাজাজ পালসার এন২৫০-এর সাথে নতুন এই বাইকটি টেস্ট করতে দেখা গেছে, যা বাজাজের ইতিহাসের সবচেয়ে অফ-রোড ফোকাসড বাইক হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ছদ্মবেশে থাকা টেস্ট ম্যুল (টেস্টিং বাইক) থেকে খুব বেশি তথ্য জানা না গেলেও এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্পষ্ট দেখা গেছে। বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে তারের তৈরি স্পোক হুইল, যার সামনের চাকা ১৯ ইঞ্চি এবং পেছনের চাকা ১৭ ইঞ্চি হতে পারে। এর টায়ারগুলো বেশ স্লিম, যা সাধারণত হালকা ওজনের ডুয়াল-স্পোর্ট বাইকে দেখা যায়। এছাড়া এর সাসপেনশনে সামনে ইউএসডি ফর্ক এবং পেছনে মনোশক ব্যবহার করা হয়েছে। দুই চাকাতেই থাকছে ডিস্ক ব্রেক।
বাইকটির বডি সিলুয়েট বা অবয়ব অনেকটা হিরোর পুরোনো ‘ইম্পালস’ কিংবা ল্যাটিন আমেরিকার জনপ্রিয় হোন্ডা বা ইয়ামাহার ১৫০-১৬০ সিসির এয়ার-কুলড ডুয়াল-স্পোর্ট বাইকগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। যেহেতু ল্যাটিন আমেরিকার বাজারে বাজাজের বড় উপস্থিতি রয়েছে, তাই সেখানে এই সেগমেন্টে প্রবেশ করা তাদের জন্য বেশ যৌক্তিক।
ধারণা করা হচ্ছে, বাইকটি ৩০০ সিসির নিচের কোনো ইঞ্জিন দিয়ে তৈরি হবে। বাজাজের কাছে ইতিমধ্যেই ১৫০ থেকে ২৫০ সিসির এয়ার ও অয়েল-কুলড ইঞ্জিনের বিশাল কালেকশন রয়েছে, সেখান থেকেও ইঞ্জিন বাছাই করা হতে পারে। খরচ সাধ্যের মধ্যে রাখতে এতে লিকুইড-কুলড ইঞ্জিনের পরিবর্তে ৫-স্পিড গিয়ারবক্স এবং সাধারণ বক্স-সেকশন সুইংআর্ম ব্যবহার করা হতে পারে।
বাইকটি দেখতে রাফ অ্যান্ড টাফ বা রুক্ষ হলেও এতে আধুনিক ফিচারের কমতি থাকবে না। আশা করা হচ্ছে, মোটরসাইকেলটিতে টিএফটি ডিসপ্লে এবং আকর্ষণীয় এলইডি লাইটিং সেটআপ থাকবে।
চলতি ২০২৬ অর্থ-বছরের মধ্যেই নতুন এই ব্র্যান্ড ও মোটরসাইকেলটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন হতে পারে। বাজারে আসার পর এটি সরাসরি হিরো এক্সপালস ২০০ ৪ভি-এর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ভারতের বাজারে এর অন-রোড দাম ২ লাখ রুপির নিচেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।