সমুদ্রের ওপর দিয়ে চলছে গাড়ি

প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png টেকভয়েস২৪  ডেস্ক
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত

ভাবতে পারেন, সমুদ্রের বুকে গাড়ি ছুটে চলছে! রূপকথার গল্প নয়, বাস্তবের ঘটনা। ইউরোপের Estonia-তে এখন এমন দৃশ্য নিয়মিত দেখা যায়—যেখানে মানুষ সমুদ্রের ওপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে এক দ্বীপ থেকে আরেক দ্বীপে পৌঁছে যাচ্ছে।

এবারের শীতে উত্তর ইউরোপে তাপমাত্রা এতটাই কমে গেছে যে সেখানে হ্রদ, নদী এমনকি সমুদ্রের পানি পর্যন্ত জমে শক্ত বরফে পরিণত হয়েছে। ফলে এখন এস্তোনিয়ার নাগরিকেরা জমে বরফ হয়ে যাওয়া সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ ধরে গাড়ি চালিয়ে দেশটির দুই প্রধান দ্বীপের মধ্যে যাতায়াত করতে পারছেন।

পশ্চিম এস্তোনিয়ায় বাল্টিক সাগর ও রিগা উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত সারেমা ও হিউমা দ্বীপকে সংযুক্ত করা এই রাস্তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘আইস রোড’। গত রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে রাস্তাটি খুলে দেওয়া হয়। সেদিন বিকেলেই ওই পথে গাড়ি চলতে দেখা গেছে।

টানা কয়েক সপ্তাহ তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকায় সেখানে সমুদ্রের পানি জমাট বেঁধে বরফে পরিণত হয়েছে। এতে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল।

এস্তোনিয়ার ছোট্ট দ্বীপ হিউমার বাসিন্দা মাত্র ৯ হাজার। সেখানকার লোকজনকে শিশুদের স্কুলে দিতে, কেনাকাটা করতে, এমনকি এক কাপ কফি খেতে হলেও সারোমা দ্বীপে যেতে হয়। সারোমায় ৩১ হাজার মানুষ বসবাস করে। এস্তোনিয়ার মূল ভূখণ্ডে যেতে হলেও হিউমার বাসিন্দাদের সারোমা হয়ে যেতে হয়।

তাই প্রয়োজন থেকেই আইস রোড খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে হিউমার মেয়র হারগো তাসুয়া বলেন, ‘এটি আমাদের সংস্কৃতিরও অংশ।’

মেয়র বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এখানকার স্থানীয় মানুষ-বিশেষ করে সমুদ্রের কাছাকাছি যারা থাকে, তারা গ্রীষ্মকালে সমুদ্রে সাঁতার কাটে ও নৌকা ব্যবহার করে। আর শীতে সমুদ্রে গিয়ে বরফের ওপর পা রাখাটা যেন তাদের রক্তে মিশে আছে।

সড়ক প্রস্তুত করার কাজটি একেবারেই সহজ ছিল না। নিরাপত্তার ন্যূনতম শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের প্রতি ১০০ মিটার (৩২৮ ফুট) পরপর বরফের পুরুত্ব মাপতে হয়। নিরাপদ চলাচলের জন্য বরফের পুরুত্বের ন্যূনতম মানদণ্ড হলো ২৪ সেন্টিমিটার (৯ দশমিক ৫ ইঞ্চি)।

এ পথে সর্বোচ্চ আড়াই টন ওজনের গাড়ি চলতে পারে এবং গতি হয় ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটারের নিচে। অথবা ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৭০ কিলোমিটারের ভেতরে থাকতে হয়। এর বাইরে যেকোনো গতি কম্পন তৈরি করে, এতে আইস রোড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সূত্র: এপি নিউজ

image

আপনার মতামত দিন