না ফেরার দেশে গেলেন রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের মন্সিনিয়র মার্শেল ফিলিপ তপ্ন

প্রকাশ: বুধবার, ২১ মে, ২০২৫
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png টেকভয়েস২৪  ডেস্ক
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত
চির নিদ্রায় শায়িত হলেন রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের যাজক মন্সিনিয়র মার্শেল ফিলিপ তপ্ন। ২১ মে, বুধবার আনুমানিক রাত ৮:০০ টায় রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পূর্বে দীর্ঘদিন তিনি অসুস্থতায় ভুগছিলেন।  

মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৬ বছর। মন্সিনিয়র মার্শেল তপ্ন ছিলেন সত্যিকার অর্থেই একজন সাদামনের মানুষ। সহজ-সরল জীবন যাপন কাকে বলে তা ফাদারকে দেখলেই বুঝা যেতো।

প্রয়াত ফাদার মার্শেরের জন্ম ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে বেণীদুয়ার ধর্মপল্লীর মিশনপাড়ার একটি মুণ্ডারী আদিবাসী পরিবারে।

দিনাজপুরের সেন্ট ফিলিপ হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করার পর নটর ডেম কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং কলকাতার মর্নিং স্টার সেমিনারীতে বিএ পড়াশুনা করেন। এরপর বনানী মেজর সেমিনারে দর্শন ও ধর্মতত্ত্ব সমাপ্ত করে যাজকীয় অভিষেক লাভ করেন ১ জানুয়ারি ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে।

পরবর্তীতে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে ফাদার মার্শেলকে মণ্ডলীর সন্মানসূচক মন্সিনিয়র উপাধি প্রদান করা হয়। মন্সিনিয়রের যাজকীয় জীবনের পঁয়তাল্লিশ বছর অতিবাহিত করেছেন; আর এই দীর্ঘ সময়টাতে তিনি ছিলেন উচ্চাভিলাসহীন, নির্লোভ, নিরহঙ্কারী, মৃদুভাষী, বিশ্বস্ত এবং একজন প্রার্থনাশীল ব্যক্তিত্ব। শত ব্যস্ততাও মন্সিনিয়রকে কখনো প্রার্থনা থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।

যাজকীয় অভিষেকের পর তিনি পালকীয় সেবাদান করেছেন বনপাড়া ধর্মপল্লীতে সহকারী পাল পুরোহিত হিসেবে। এরপর দিনাজপুরে সুইহারী ইন্টারমিডিয়েট সেমিনারীর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময়কার সেমিনারীয়ানদের ভাষ্যমতে, মন্সিনিয়র মার্শেল তপ্ন পরিচালক হিসাবে ছিলেন একজন পিতা ও বন্ধুর মতো। তিনি কখনো রাগতস্বরে কথা বলতেন না। সেমিনারীয়ানদের জন্য ছিলেন একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব। মন্সিনিয়রের কাছে খোলামনে সব কথা বলা যেতো।

পরবর্তীতে মন্সিনিয়র মার্শেল তপ্ন উচ্চ শিক্ষার জন্য ইটালীতে যান। পড়াশুনা সমাপ্ত করে ধানজুড়ি, ঠাকুরগাঁও, নতুন রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের উপশহরে অবস্থিত বিশপ হাউজে দায়িত্বরত ছিলেন। এরপর তিনি বোর্ণী ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। 

এরপর তিনি একে একে সুরশুনিপাড়া, আন্ধারকোঠা, বিশপ হাউজ ও কাথিড্রাল ধর্মপল্লীতে পাল পুরোহিত হিসাবে ছিলেন। প্রত্যেকটি ধর্মপল্লীতে তিনি বিশপের বাধ্য থেকে বিশ্বস্ততার সাথে সেবাদায়িত্ব পালন করেছেন।

মন্সিনিয়র মার্শেল তপ্ন রহনপুর, লুইসপাড়া ও কাথিড্রাল ধর্মপল্লীতে সহাকারী পাল পুরোহিত ও মুশরইল সেমিনারীতে আধ্যাত্মিক পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য যে,  ২২শে মে ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ সকাল ৭:৩০ মিনিটে রাজশাহী বিশপস হাউস এবং সকাল ১১:৩০ মিনিটে পবিত্র খ্রিস্টযাগের পরে নিজ ধর্মপল্লী বেণীদুয়ারে তাকে সমাহিত করা হবে।

তার এই মহাপ্রয়াণে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ, ফাদার-ব্রাদার, সিস্টার ও খ্রিস্টভক্তদের পক্ষ থেকে পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা। ঈশ্বর তাঁর এইভক্ত সেবককে চিরশান্তি দান করুন। সূত্র: আরভিএ  
image

আপনার মতামত দিন