সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমির অধিকারসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ের প্রত্যাশায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে। আলোচনা সভা, র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করেন বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ।
এবার জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের মূলসুর ছিল-‘আদিবাসী জীবন ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের আয়োজনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে গারো, মারমা, চাকমা, সাঁওতাল, ত্রিপুরা, হাজং, মুন্ডা, চাক, বম, লুসাই ও রাখাইনসহ বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভূমির অধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদিবাসীরা এখনো প্রত্যাশিত অধিকার পাচ্ছেন না।
আদিবাসী নেতা উষাতন তালুকদার বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকার প্রায়ই প্রচার করে থাকে বাংলাদেশে আদিবাসী নেই। কিন্তু এটা বাস্তব সত্য, বাংলাদেশে আদিবাসী আছে এবং আমরা আদিবাসী।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে আপত্তি কোথায়?’
উষাতন তালুকদার আরও বলেন, ‘আমি আশা রাখব, আগামী বছর বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী দিবস পালন করবে। আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী কাগজপত্র বা দলিল না থাকা আদিবাসীদের জমি বরাদ্দ ও সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’
আদিবাসী অধিকারকর্মী থিওফিল নকরেক বলেন, ‘যেখানে আদিবাসীরা আছে, সেখানে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হচ্ছে। কিন্তু যেদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী দিবস পালিত হবে, তখন আমরা মনে করব রাষ্ট্র আদিবাসীদের প্রতি সংবেদনশীল।’
তিনি আরও বলেন, ‘যখন রাষ্ট্র আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার, ভূমির অধিকার ও কর্মসংস্থানের অধিকার দেবে, তখনই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে বলতে পারবে-আমরা সব মানুষের সমান অধিকারে বিশ্বাসী।’
থিওফিল নকরেক বলেন, ‘আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার নেই বলে আজ বাংলাদেশের আদিবাসীরা হীনমন্যতায় ভুগছে। রাষ্ট্র যদি না চায়, তাহলে আদিবাসীরা অধিকারবঞ্চিতই থেকে যাবে।’
এদিকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে দি খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড, ঢাকার প্রেসিডেন্ট মাইকেল জন গমেজ ও সেক্রেটারি মঞ্জু মারীয়া পালমা দেশের সব আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৬ লাখের বেশি, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ। তবে আদিবাসী নেতাদের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি।
জাতিসংঘের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কার্যনির্বাহী দলের প্রথম সভা ১৯৮২ সালের ৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৯৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৯ আগস্টকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সূত্র: আরভিএ