ইরানের সাইবার হামলার কৌশলে বিশাল পরিবর্তন

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট, ২০২৬
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png নিজস্ব প্রতিবেদক
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন-ইরান সংঘাতের রেশ এখন ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে ডিজিটাল জগতে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ছয়টি অঙ্গরাজ্যের পানি শোধনাগার ও ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে একযোগে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

ওয়াশিংটনের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিআইএসএ) এরই মধ্যে জরুরি নির্দেশ জারি করে পানি কেন্দ্রগুলোকে তাদের মূল সিস্টেম ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে। পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষকে দায়ী না করলেও সব আলামত ইরানের দিকেই ইঙ্গিত করছে।

ইরানের সাইবার কৌশলে পরিবর্তন
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের সাইবার কৌশলে দৃশ্যমান ও গভীর পরিবর্তন এসেছে। শুরুর দিকের বিচ্ছিন্ন হ্যাকিং থেকে সরে এসে তেহরান এখন সাইবার সক্ষমতাকে তাদের মূল সামরিক ও রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বিত করেছে।

এসএস৭ হ্যাক করে সেনাদের অবস্থান শনাক্ত
ইরানের হ্যাকারদের কার্যক্রম এখন আর কেবল ওয়েবসাইটের চেহারা বদলে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গত জুলাইয়ে হ্যাকাররা টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ এসএস৭ (SS7) প্রোটোকলে হামলা চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর ভিত্তিতে পরে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া কূটনৈতিক আলোচনার গতিবিধি বুঝতে মার্কিন ও ইসরায়েলি শীর্ষ কর্মকর্তাদের ডিজিটাল ডিভাইসে নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।

 
ইরানের সামরিক নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মনস্তাত্ত্বিক ও তথ্যযুদ্ধে জয়ী হওয়া। নিজেদের সীমানার বাইরে মার্কিন সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করছে তারা। ২০২৪ সালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হ্যাকাররা ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে মার্কিন পানি খাতের কারিগরি দুর্বলতা বিশ্লেষণ করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এআই ব্যবহারের ফলে কোডিং, ম্যালওয়্যার তৈরি ও অপপ্রচারের গতি এবং প্রভাব বেড়েছে।

তথ্য ফাঁসেও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ
ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও সাবেক সেনাপ্রধান হারজি হালেভির ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা পারস্য উপসাগরে কর্মরত মার্কিন মেরিন সেনাদের তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়াকে এই মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতিপক্ষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক তৈরি করাই মূল লক্ষ্য।

ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হলেও সক্রিয় সাইবার ইউনিট
মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় দক্ষিণ ইরানের প্রায় ১০০টি টেলিকমিউনিকেশন টাওয়ার ধ্বংস হওয়ায় তেহরান কিছুটা চাপে পড়েছে। তবে সাধারণ ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও সরকার সমর্থিত বিশেষ টু-টায়ার নেটওয়ার্ক ও স্যাটেলাইট যোগাযোগের মাধ্যমে সাইবার ইউনিটগুলোকে সক্রিয় রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

 
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান মূলত ‘ক্যালিব্রেটেড এসকেলেশন’ বা নিয়ন্ত্রিত উত্তাপের কৌশল অনুসরণ করছে। এর অর্থ হলো সাইবার হামলার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত ও অস্থির করা, তবে সংঘাতকে পূর্ণাঙ্গ সরাসরি যুদ্ধে রূপ নেওয়া থেকে বিরত রাখা।

মধ্যবর্তী নির্বাচনেও সাইবার হামলার শঙ্কা
পারস্য উপসাগরে নৌপথ অবরোধ ইরানের প্রধান অর্থনৈতিক অস্ত্র হলেও সাইবার সক্ষমতা সেই অস্ত্রকে আরও সূক্ষ্ম ও কার্যকর করে তুলছে। দীর্ঘমেয়াদে আলোচনা ব্যর্থ হলে এই সাইবার হামলা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, ইরানি হ্যাকার গোষ্ঠী হানদালা আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে-এই সাইবার যুদ্ধ কোনো সামরিক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়ার নয়। সূত্র: টেকক্রাঞ্চ
 
  

image

আপনার মতামত দিন