বেসিস নির্বাচন ২০২৬: প্রেসিডেন্ট প্রার্থী দুই, বাদ পড়লেন তিন জন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png টেকভয়েস২৪ রিপোর্ট
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পর্ষদ নির্বাচনে প্রার্থিতার হিসাব পাল্টে গেছে। 

প্রাথমিক তালিকায় প্রেসিডেন্ট পদে থাকা চার প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। ফলে ১১ পদের বিপরীতে প্রাথমিক ২৬ জন থেকে বৈধ প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন ২৩ জন; প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মাত্র দুজন।

২ সেপ্টেম্বর, বুধবার নির্বাচন বোর্ড বৈধ ও অবৈধ প্রার্থীদের পৃথক তালিকা প্রকাশ করেছে। অবৈধ প্রার্থীদের তালিকায় প্রেসিডেন্ট পদে থাকা রাফেল কবির, মোস্তফা রফিকুল ইসলাম এবং ডাইরেক্টর (জেনারেল) পদে থাকা আরেফীন রাফি আহমেদের নাম রয়েছে।

প্রাথমিক তালিকায় প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন চারজন-রাফেল কবির (ডিএনএস সফটওয়্যার লি.), মোস্তফা রফিকুল ইসলাম (ফ্লোরা টেলিকম লি.), ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান (ডিভাইন আইটি লি.) এবং এ কে এম আশরাফ উদ্দিন (ডিসেন্ট অ্যাক্ট ইন্টারন্যাশনাল)। তাঁদের মধ্যে এখন বৈধ রয়েছেন ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান ও এ কে এম আশরাফ উদ্দিন।

বৈধ প্রার্থীদের তালিকা অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদে ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান ডিভাইন আইটি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এ কে এম আশরাফ উদ্দিন ডিসেন্ট অ্যাক্ট ইন্টারন্যাশনালের প্রোপ্রাইটর।

অন্য পদে যারা বৈধ
সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বৈধ তিনজন হলেন সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক (আইসিসি টেলিসার্ভিসেস লিমিটেড), নূর মাহমুদ খান (রাইট ব্রেইন সলিউশন লিমিটেড) ও আনিসুল হক ভূঁইয়া (টেক টেরেইন আইটি লিমিটেড)।

ভাইস প্রেসিডেন্ট (অ্যাডমিন) পদে রয়েছেন হাসনাইন মো. রিয়াদ (স্মার্ট ল্যাব) ও মো. মুসনাদ ই আহমদ (স্কাইটেক সলিউশনস)।

ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তানিয়া সুলতানা (সিনার্জি ইন্টারফেস লিমিটেড), তৌফিকুল করিম সুহৃদ (ফিঙ্গারটিপস ইনোভেশনস লিমিটেড) ও তানজিল আবেদীন (ট্রেন্ডস বার্ড লিমিটেড)।

ডাইরেক্টর (জেনারেল) পদে বৈধ রয়েছেন মো. জুয়েল (ট্রাস্ট আইটি লিমিটেড), সুমচ মোহাম্মদ তারেক (বিডিটাস্ক লিমিটেড), আপেল মাহমুদ খান (বিজেডএম গ্রাফিক্স লিমিটেড), মো. আবদুর রাজ্জাক রূপম (ওএস ক্লিকস), দেলওয়ার আলম (বাগসবিডি লিমিটেড), আবদুল্লাহ আল মামুন (প্রাইমেক্স ইনফরমেশন সিস্টেমস লিমিটেড), ফেরদৌস আলম (আতোভা টেকনোলজি), মো. রাশেদুল ইসলাম (ই-মেডিকেল সফটওয়্যার লিমিটেড) এবং মোঃ ফুয়াদ হাসান (রেড স্প্যারো লিমিটেড)।

এ পদে প্রাথমিক তালিকার ১০ জনের মধ্যে আরেফীন রাফি আহমেদের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় এখন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন নয়জন।

ডাইরেক্টর (অ্যাসোসিয়েট) পদে রয়েছেন সৈয়দ শফিউল আলম (বি ডেটা সলিউশনস লিমিটেড), মো. জুবায়ের রিয়েল (সিসম্যাট্রিক্স টেকনোলজিস লিমিটেড) ও আহমেদ আরমান সিদ্দিকী (গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেড)। ডাইরেক্টর (অ্যাফিলিয়েট) পদে একমাত্র বৈধ প্রার্থী সুমাইয়া ইসলাম (ক্রিয়েটো ডিজাইন রিসার্চ ল্যাব লিমিটেড)।

শূন্য আন্তর্জাতিক পদ
প্রকাশিত বৈধ প্রার্থীদের তালিকায় ‘ইন্টারন্যাশনাল’ ক্যাটাগরির কোনো প্রার্থী নেই। ফলে ১১ পদের মধ্যে একটি পদ প্রার্থীশূন্য থাকছে। বেসিসের মোট সদস্য প্রায় ২ হাজার ৮৮২ জনের বেশি হলেও আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরিতে সদস্য সংখ্যা মাত্র পাঁচজন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মন্ত্রণালয় থেকে মনোনয়নপত্র
নতুন তফসিল অনুযায়ী বেসিসের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পর্ষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর। ১৪ থেকে ২০ আগস্ট বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ৩ নম্বর ভবনের ১২৩ ও ১২৬ নম্বর কক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল করা হয়।

নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (রপ্তানি-১) তানিয়া ইসলাম। সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপসচিব (রপ্তানি-২) নাসরিন সুলতানা ও উপসচিব (রপ্তানি-৩) মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

এর আগে ১৪ মার্চ বেসিস সভাকক্ষে বেসিস প্রশাসক আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খানের সভাপতিত্বে তৃতীয় প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মেমোরেন্ডাম হালনাগাদ, মেম্বারশিপ অডিট, ভোটার তালিকা, বাজেট ও প্রশাসনিক অনুমোদনসহ নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।

গত ৬ জুলাই বেসিস প্রশাসকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সংগঠনটির প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়েও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। গত ২৭ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি দল বেসিস কার্যালয় পরিদর্শন করে। এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের মন্ত্রণালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে হয়েছে।

বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর বলেন, "গত দেড় বছরে মন্ত্রণালয় অ্যাসোসিয়েশনকে ধ্বংস করছে। ফলে নির্বাচনে সদস্যদের আগ্রহ কমে গেছে। এছাড়াও ৫ জন সদস্যের জন্য একটি পদ থাকার কোনো প্রয়োজন দেখি না।"

ক্লিয়ারেন্সের ওপর চূড়ান্ত বৈধতা
নির্বাচন বোর্ডের প্রকাশিত বৈধ প্রার্থীদের তালিকায় বলা হয়েছে, এই তালিকা ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্ট, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ক্লিয়ারেন্স এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ওপর নির্ভরশীল। কোনো প্রার্থীর সিআইবি রিপোর্ট, এনবিআর ক্লিয়ারেন্স বা পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে বিরূপ মন্তব্য পাওয়া গেলে পূর্ব নোটিশ ছাড়াই প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে।

অর্থাৎ ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তালিকাই নির্বাচন প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের ভিত্তি হলেও ক্লিয়ারেন্স-সংক্রান্ত কোনো নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে প্রার্থীদের তালিকায় আবারও পরিবর্তন আসার সুযোগ থাকছে।

image

আপনার মতামত দিন