আত্মহত্যা প্রতিরোধে চ্যাটজিপিটির নতুন নিরাপত্তাসুবিধা

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৮ মে, ২০২৬
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png নিজস্ব প্রতিবেদক
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত

ব্যবহারকারীদের মানসিক নিরাপত্তা জোরদারে চ্যাটজিপিটিতে নতুন ফিচার আনছে ওপেনএআইI। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিতে আত্মহত্যা ও আত্মক্ষতির ঝুঁকি মোকাবিলায় এই নতুন নিরাপত্তাসুবিধা চালু করছে প্রতিষ্ঠানটি। ‘ট্রাস্টেড কনট্যাক্ট’ সুবিধার আওতায় ব্যবহারকারীরা একজন বিশ্বস্ত যোগাযোগকারী নির্ধারণ করতে পারবেন। কোনো কথোপকথনে আত্মহত্যা বা আত্মক্ষতির ঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হবে। 

কারা ব্যবহার করতে পারবেন এ সুবিধা
ওপেনএআই জানিয়েছে, সুবিধাটি আপাতত ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারী প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য চালু করা হচ্ছে। অধিকাংশ দেশে ১৮ বছর বয়সীদের জন্য এটি উন্মুক্ত হলেও দক্ষিণ কোরিয়ায় বয়সসীমা রাখা হয়েছে ১৯ বছর। তবে ব্যবসায়িক, এন্টারপ্রাইজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়ার্কস্পেস অ্যাকাউন্টে এ সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না। ব্যবহারকারীরা চ্যাটজিপিটির সেটিংস থেকে একজন বিশ্বস্ত যোগাযোগকারী ব্যক্তিকে যুক্ত করতে পারবেন। আমন্ত্রণ পাঠানোর পর সাত দিনের মধ্যে সেটি গ্রহণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমন্ত্রণ গ্রহণ না করলে সেটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।

কীভাবে কাজ করবে নিরাপত্তাব্যবস্থা
চ্যাটজিপিটির স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা কোনো কথোপকথনে আত্মক্ষতি বা আত্মহত্যার ঝুঁকির ইঙ্গিত শনাক্ত করলে প্রথমে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করা হবে। প্রয়োজনে তাঁর নির্ধারিত যোগাযোগকারী ব্যক্তির কাছে বার্তা পাঠানো হতে পারে। এরপর বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানব পর্যালোচকেরা। ওপেনএআইয়ের মতে, সাধারণত এক ঘণ্টার মধ্যেই এ পর্যালোচনার কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে। 

পর্যালোচকেরা পরিস্থিতিকে গুরুতর মনে করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে ই-মেইল, খুদে বার্তা বা অ্যাপ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে একটি সংক্ষিপ্ত সতর্কবার্তা পাঠানো হবে। তবে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত কথোপকথনের কোনো অংশ বা বিস্তারিত তথ্য সেখানে শেয়ার করা হবে না। বার্তায় শুধু উল্লেখ থাকবে যে আত্মক্ষতিসংক্রান্ত আলোচনা শনাক্ত হয়েছে এবং ব্যবহারকারীর খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে সহায়তা করতে হবে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও যুক্ত থাকবে।

কেন আনা হচ্ছে এই উদ্যোগ
গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্যারেন্টাল-সুবিধা চালুর পর এবার আরও বিস্তৃত নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে ‘ট্রাস্টেড কনট্যাক্ট’ সুবিধা আনছে ওপেনএআই। এর আগে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর কয়েক মাস ধরে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপ চালিয়ে যাওয়ার পর আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে কয়েকটি পরিবার ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, চ্যাটবট আত্মহত্যামূলক আচরণে উৎসাহ দিয়েছে কিংবা পরিকল্পনায় সহায়তা করেছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ
ওপেনএআইয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে তাদের প্রায় শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ ব্যবহারকারীর মধ্যে আত্মক্ষতি বা আত্মহত্যার ঝুঁকির লক্ষণ দেখা যায়। একই পরিমাণ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে চ্যাটবটের প্রতি অতিরিক্ত মানসিক নির্ভরশীলতার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিশ্বজুড়ে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন। সে হিসাবে ঝুঁকিতে থাকা ব্যবহারকারীর সংখ্যা কয়েক মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে।

নিরাপত্তাসুবিধার সীমাবদ্ধতা
তবে নতুন এ নিরাপত্তাসুবিধার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ‘ট্রাস্টেড কনট্যাক্ট’ সুবিধা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক হওয়ায় ব্যবহারকারী চাইলে এটি সক্রিয় নাও করতে পারেন। আবার একজন ব্যক্তি একাধিক চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করলে নিরাপত্তাব্যবস্থাটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও থেকে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তৈরি নতুন ব্যবস্থা
ওপেনএআই জানিয়েছে, নতুন সুবিধাটি তৈরিতে American Psychological Association, বিশ্বের ৬০টি দেশের ২৬০-এর বেশি চিকিৎসক নিয়ে গঠিত তাদের গ্লোবাল ফিজিশিয়ানস নেটওয়ার্ক এবং ১৭০-এর বেশি মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে চ্যাটজিপিটি আগের মতোই ব্যবহারকারীদের স্থানীয় সহায়তা হেল্পলাইন ও জরুরি যোগাযোগ নম্বর দেখাবে। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, এপি ও সিএনএন

image

আপনার মতামত দিন