দূরবর্তী ও দুর্গম অঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে Alphabet Inc.-এর স্টার্টআপ Taara। ছোট, বহনযোগ্য এবং অত্যাধুনিক এই ডিভাইসটি বাতাসের মাধ্যমে ফাইবার, সমমানের গতিতে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে। যেখানে ফাইবার অপটিক কেবল বসানো কঠিন বা ব্যয়বহুল, সেখানে এটি হতে পারে কার্যকর সমাধান।
২৫ গিগাবিট গতির প্রতিশ্রুতি
নতুন ‘তারা বিম’ ডিভাইসটির ওজন মাত্র ১৭ পাউন্ড এবং আকারে অনেকটা প্রজেক্টরের মতো। এটি নিয়ার-ইনফ্রারেড আলোর সাহায্যে সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত ডেটা পাঠাতে সক্ষম। সর্বোচ্চ ২৫ গিগাবিট প্রতি সেকেন্ড গতির সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি এই প্রযুক্তি ফাইবারের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। ডিভাইসটি সেল টাওয়ার, উঁচু ভবনের ছাদ বা বিপরীত দিকের অবকাঠামোতে স্থাপন করা যায়। মাটির নিচে কেবল বসানোর প্রয়োজন না থাকায় সময় ও খরচ, দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
আরও ছোট, আরও শক্তিশালী
আগের ‘লাইটব্রিজ’ মডেলের তুলনায় নতুন তারা বিম প্রায় ৫০ শতাংশ ছোট ও হালকা। লাইটব্রিজের ওজন ছিল প্রায় ২৯ পাউন্ড এবং গতি ছিল ২০ গিগাবিট প্রতি সেকেন্ড। নতুন সংস্করণটি শুধু দ্রুত নয়, বরং ইনস্টলেশন ও রক্ষণাবেক্ষণেও সহজ। শহরের ছাদ, কর্পোরেট ক্যাম্পাস, ডেটা সেন্টার কিংবা বড় ইভেন্ট ভেন্যু, যেখানে অস্থায়ীভাবে উচ্চ ব্যান্ডউইথ প্রয়োজন হয়, সেখানে এটি বিশেষভাবে কার্যকর সমাধান দিতে পারে।
স্যাটেলাইট নয়, সরাসরি আলোর সংযোগ
ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (ISP) ও মোবাইল ক্যারিয়ারদের জন্য তৈরি এই প্রযুক্তি স্যাটেলাইটভিত্তিক সেবার বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যেমন Starlink মহাকাশে উপগ্রহের মাধ্যমে ইন্টারনেট সরবরাহ করে, তেমনি তারা আলোর অদৃশ্য রশ্মির মাধ্যমে সরাসরি পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট সংযোগ স্থাপন করে। ফলে গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলেও নির্ভরযোগ্য এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, তা-ও তুলনামূলক কম অবকাঠামোগত ঝামেলায়।
সহজ স্থাপন, দ্রুত সম্প্রসারণ
তারা বিম মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছাদ, খুঁটি বা বিদ্যমান টাওয়ারে স্থাপন করা যায়। কোনো খননকাজ, অতিরিক্ত স্পেকট্রাম লাইসেন্স বা জটিল অনুমোদন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় না। এই সরল স্থাপন প্রক্রিয়া শহর ও শহরতলিতে দ্রুত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে, বিশেষত যেখানে দ্রুত ডেটা চাহিদা বাড়ছে।
বিশ্বব্যাপী ব্যবহার ও আগ্রহ
তারা প্রযুক্তি ইতোমধ্যে ২০টিরও বেশি দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর গ্রাহক তালিকায় রয়েছে T-Mobile, SoftBank, Bharti Airtel এবং Digicel। টি-মোবাইল বড় মিউজিক ফেস্টিভ্যাল ও বেলুন উৎসবে ৫জি নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়াতে লাইটব্রিজ ব্যবহার করছে। এছাড়া Google Fiber পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তি যাচাই করছে।
আগামী সপ্তাহে Mobile World Congress-এ তারা তাদের নতুন উদ্ভাবন প্রদর্শন করবে। ডিভাইসের মূল্য দেশভেদে ভিন্ন হবে এবং হার্ডওয়্যার ও সংযোগ সেবার ধরণ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
সংযোগ প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ
বিশ্বজুড়ে দ্রুত ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার দৌড়ে তারা এক নতুন সম্ভাবনার নাম। ফাইবারের গতি, তারবিহীন স্থাপন এবং দ্রুত বাস্তবায়ন, এই তিনের সমন্বয়ে প্রযুক্তিটি ভবিষ্যতের সংযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দূরবর্তী পাহাড়ি গ্রাম থেকে শুরু করে ব্যস্ত নগরীর ছাদ, সবখানেই হয়তো একদিন আলোর অদৃশ্য সেতুতেই ভর করে ছুটবে ডেটা। সূত্র: রয়টার্স, দ্য ভার্জ