এআই চিপ উৎপাদন বন্ধ করল এনভিডিয়া

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৬ মার্চ, ২০২৬
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png টেকভয়েস২৪  ডেস্ক
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের শীর্ষ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া চীনের বাজারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপ উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও নিয়ন্ত্রক বাধার কারণে প্রতিষ্ঠানটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে এনভিডিয়া তাদের উৎপাদনক্ষমতা চীনের পরিবর্তে বৈশ্বিক বাজারের জন্য অত্যাধুনিক ‘ভেরা রুবিন’ হার্ডওয়্যার তৈরিতে ব্যবহার করবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এনভিডিয়া তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিতে (টিএসএমসি) তাদের চিপ তৈরির সক্ষমতা পুনর্নির্ধারণ করেছে। আগে যেখানে এইচ-২০০ চিপ তৈরি হতো, সেখানে এখন পরবর্তী প্রজন্মের উন্নত চিপ তৈরি করা হবে। এইচ-২০০ চিপটি মূলত মার্কিন রফতানি নীতি মেনে চীনা বাজারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর এনভিডিয়া মনে করছে, অদূর ভবিষ্যতে চীনে এ চিপের বড় কোনো বিক্রির সম্ভাবনা নেই।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চিপ বিক্রিতে ইতিবাচক সংকেত দেয়ায় এনভিডিয়া প্রায় ১০ লাখ চিপ সরবরাহের প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে কঠোর বিধিনিষেধের পক্ষে অবস্থান নিলে প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে পড়ে। 

অন্যদিকে চীনও তাদের নিজস্ব চিপ শিল্পকে সুরক্ষিত করতে এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশী প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করতে আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপের পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে বেইজিংয়ের বিশেষ অনুমতি ছাড়া চীনে এ চিপ আমদানি নিষিদ্ধ।

এনভিডিয়ার প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা কোলেট ক্রেস সম্প্রতি এক সভায় জানান, কিছু চিপ বিক্রির অনুমতি পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত চীন থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য আয় হয়নি। এমনকি ভবিষ্যতে সেখানে আমদানির অনুমতি পাওয়া যাবে কিনা, তা-ও অনিশ্চিত। বর্তমানে এনভিডিয়ার কাছে প্রায় আড়াই লাখ এইচ-২০০ চিপের মজুদ রয়েছে। 

কোম্পানিটি মনে করছে, যদি সীমিত পরিসরে কোনো ক্রয়াদেশ আসে, তবে এ মজুদ দিয়েই তা মেটানো সম্ভব হবে। আপাতত অনিশ্চয়তা এড়িয়ে ওপেনএআই ও গুগলের মতো বড় গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

image

আপনার মতামত দিন