বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জয়জয়কারের মধ্যে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে ওপেনএআই-এর জনপ্রিয় চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’। বাজার গবেষণা ও ডেটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান সেন্সর টাওয়ার-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি অ্যাপের বৈশ্বিক মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা রেকর্ড গতিতে ১০০ কোটি বা ১ বিলিয়ন পার হয়ে গেছে।
ইতিহাসে দ্রুততম উত্থান
পৃথিবীর ইতিহাসে এর আগে কোনো মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এত দ্রুত শত কোটি সক্রিয় ব্যবহারকারীর এই মাইলফলক ছুঁতে পারেনি। প্রযুক্তি বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিক-এর মধ্যে চলমান তীব্র প্রতিযোগিতার মাঝেই এই নতুন রেকর্ডটি সামনে এলো।
মাত্র সাড়ে তিন বছরে বিলিয়ন ব্যবহারকারী
সেন্সর টাওয়ারের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত মে মাসে চ্যাটজিপিটি বিশ্বজুড়ে ১০০ কোটি মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর এই অবিশ্বাস্য মাইলফলকটি স্পর্শ করে। ২০২২ সালের শেষের দিকে বাজারে আসার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের কাছাকাছি সময়ে অ্যাপটি এই সফলতা দেখাল।
জনপ্রিয় অ্যাপগুলোকেও ছাড়িয়ে
এর মাধ্যমে চ্যাটজিপিটি গুগল ম্যাপস, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউব-এর মতো বিশ্ব কাঁপানো জনপ্রিয় অ্যাপগুলোর আগের সব রেকর্ড ও গতিকে অনায়াসে ছাড়িয়ে গেছে। তবে এই বিশাল সাফল্যের সুদিনের মধ্যেও ওপেনএআই-এর জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদেরই সাবেক কর্মকর্তাদের তৈরি চ্যাটবট ক্লড।
ক্লডের কারণে ব্যবহারকারীর আচরণে পরিবর্তন
মার্কিন বাজারের ডেটা বিশ্লেষণ করে সেন্সর টাওয়ার জানিয়েছে, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) যেসব চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারী তাদের ফোনে অ্যানথ্রোপিকের ‘ক্লড’ অ্যাপটি ইনস্টল করেছেন, তারা পরবর্তী এক মাসেই চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের পেছনে আগের আট মাসের গড় সময়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ কম সময় ব্যয় করেছেন। অর্থাৎ, ক্লড অ্যাপের উন্নত কর্মক্ষমতা চ্যাটজিপিটির পুরোনো ও বিশ্বস্ত ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশকে নিজেদের দিকে টেনে নিতে শুরু করেছে।
শেয়ারবাজারে নামার প্রস্তুতি
ব্যবসায়িক বাজার ও আর্থিক দিক থেকেও এই দুই এআই জায়ান্টের লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। গত সোমবারই অ্যানথ্রোপিক প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়নের লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন শেয়ারবাজারে যাওয়ার জন্য গোপন খসড়া প্রাথমিক শেয়ার ছাড়পত্র (আইপিও) দাখিল করেছে।
ওপেনএআই-ও প্রস্তুত আইপিওর জন্য
অন্যদিকে, রয়টার্সের ভেতরের খবর অনুযায়ী, ওপেনএআই-ও বসে নেই এবং তারাও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিজস্ব প্রাথমিক শেয়ার ছাড়পত্র (আইপিও)-এর জন্য আবেদন করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। শেয়ারবাজারে এই দুই মেগা প্রতিষ্ঠানের মুখোমুখি লড়াই এআই খাতের পুরো ভবিষ্যৎ সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
বৃদ্ধির হারে ক্লডের বিস্ময়কর অগ্রগতি
ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হারের দিক থেকে চ্যাটজিপিটিকে ইতিমধ্যেই বেশ পেছনে ফেলে দিয়েছে ক্লড। চলতি ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ক্লড অ্যাপের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা মাত্র ৫ কোটি ৬০ লাখে পৌঁছালেও এর বার্ষিক বৃদ্ধির হার ছিল চোখ কপালে তোলার মতো প্রায় ৬৪০ শতাংশ। এর বিপরীতে চ্যাটজিপিটির বার্ষিক ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৬২ শতাংশ।
এআই বাজারে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যবহারকারীর মোট সংখ্যার বিচারে চ্যাটজিপিটি এখনো অনেক এগিয়ে থাকলেও, ক্লডের এই জ্যামিতিক হারের উত্থান ও চ্যাটজিপিটির ব্যবহার সময় কেড়ে নেওয়ার প্রবণতা আগামী দিনগুলোতে ওপেনএআই-এর একচেটিয়া বাজারে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে। সূত্র: রয়টার্স, টেকক্রাঞ্চ