সাইবার হামলা নিয়ে সতর্কবার্তা: কীভাবে আপনার আইপি অপরাধীদের হাতে পৌঁছে যায়

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png নিজস্ব প্রতিবেদক
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) সম্প্রতি সতর্ক করেছে যে সাইবার অপরাধীরা সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অজান্তেই তাদের সংযোগ ব্যবহার করে অবৈধ কাজ চালাচ্ছে। বাড়ি বা ছোট ব্যবসার ইন্টারনেট সংযোগকে “ইন্টারমিডিয়ারি সার্ভার” হিসেবে ব্যবহার করার ফলে প্রকৃত অপরাধীর অবস্থান গোপন থাকে। এতে নিরীহ ব্যবহারকারীর আইপি ঠিকানাই সন্দেহের মুখে পড়ে, যা আইনি ঝামেলার কারণও হতে পারে।

রেসিডেনশিয়াল প্রক্সি কী এবং কীভাবে কাজ করে
রেসিডেনশিয়াল প্রক্সি হলো এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে একজন ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট ট্রাফিক অন্য একটি ডিভাইসের মাধ্যমে রাউট করা হয়। এতে ওয়েবসাইটের কাছে আসল ব্যবহারকারীর পরিচয় ও অবস্থান গোপন থাকে। এখানে বৈধ আইএসপি থেকে পাওয়া আইপি ঠিকানা ব্যবহৃত হয়, ফলে এটি আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। সাইবার অপরাধীরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজেদের কার্যক্রম আড়াল করে এবং অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে অনলাইনে বিচরণ করে।

কোন ডিভাইসগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে
স্মার্ট টিভি, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, রাউটারসহ বিভিন্ন ‘ইন্টারনেট অব থিংস’ (আইওটি) ডিভাইস এই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এসব ডিভাইস হ্যাক করে অপরাধীরা সেগুলোর আইপি ব্যবহার করে অপরাধমূলক কাজ চালায়। অনেক সময় ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না যে তার ডিভাইসটি অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে অপরাধের দায় গিয়ে পড়ে ডিভাইস মালিকের ওপর।

কীভাবে আপনার আইপি অপরাধীদের হাতে পৌঁছে যায়
সাধারণত দুইভাবে রেসিডেনশিয়াল আইপি সংগ্রহ করা হয়-ব্যবহারকারীর সম্মতিতে এবং অজান্তে। অনেক ফ্রি ভিপিএন সেবা ব্যবহারকারীর ডিভাইসকে প্রক্সি নেটওয়ার্কে যুক্ত করে, যা শর্তাবলির জটিল ভাষায় লুকানো থাকে। এছাড়া ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে ডিভাইসে গোপন প্রবেশপথ তৈরি করা হয়। কখনো ডিভাইস কেনার আগেই তাতে ম্যালওয়্যার থাকতে পারে, আবার কখনো অ্যাপ ডাউনলোডের সময় এটি যুক্ত হয়। টরেন্ট বা অননুমোদিত উৎস থেকে গেম, সিনেমা বা সফটওয়্যার ডাউনলোড করলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

 প্যাসিভ ইনকাম ফাঁদ: লুকানো বিপদ
অনেক অ্যাপ “প্যাসিভ ইনকাম” বা সহজে টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের অনুমতি নেয়। বাস্তবে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীর সংযোগ অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করতে পারে। ফলে ব্যবহারকারী না জেনেই অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারেন।

রেসিডেনশিয়াল প্রক্সি দিয়ে যেসব অপরাধ হয়
রেসিডেনশিয়াল প্রক্সি প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাইবার অপরাধীরা নিজেদের সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসেবে উপস্থাপন করে নানা ধরনের অপরাধ চালায়। এর মধ্যে ম্যালওয়্যার ছড়ানো, ফিশিং আক্রমণ পরিচালনা, ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি, স্প্যাম বার্তা প্রচার, গোপনে তথ্য পাচার এবং ব্রুট ফোর্স আক্রমণের মাধ্যমে পাসওয়ার্ড ভাঙার মতো কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া তারা আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে বিভিন্ন কনটেন্ট ব্যবহার করে, অবৈধ অনলাইন মার্কেটপ্লেস পরিচালনা করে এবং আর্থিক জালিয়াতির মতো গুরুতর অপরাধও সংঘটিত করে।

 নিরাপদ থাকতে কী করবেন
এই ঝুঁকি এড়াতে কিছু সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমত, ফ্রি স্ট্রিমিং ডিভাইস বা সন্দেহজনক অ্যাপ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। অপরিচিত ওয়েবসাইটের পপআপ, সন্দেহজনক ইমেইল বা লিংকে ক্লিক করবেন না। পাইরেটেড সফটওয়্যার, গেম বা সিনেমা ডাউনলোড করা থেকে দূরে থাকুন। এছাড়া আপনার নেটওয়ার্কে সংযুক্ত ডিভাইসগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন। রাউটারের পাসওয়ার্ড শক্তিশালী করুন এবং নিয়মিত আপডেট দিন। সম্ভব হলে বিশ্বস্ত অ্যান্টিভাইরাস ও ফায়ারওয়াল ব্যবহার করুন।

সচেতনতা হলো সেরা প্রতিরক্ষা
বর্তমান ডিজিটাল যুগে শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই হবে না, এর ঝুঁকি সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। সাইবার অপরাধীরা প্রতিনিয়ত নতুন কৌশল ব্যবহার করছে, তাই ব্যবহারকারীদেরও সতর্ক থাকতে হবে। আপনার ইন্টারনেট সংযোগ যেন অন্য কেউ অপব্যবহার করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

image

আপনার মতামত দিন