ধর্মে-ধর্মে ও মানুষে-মানুষে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও সম্প্রীতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ৮ আগস্ট পবিত্র ক্রুশ ধর্মপল্লীতে ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আন্তঃধর্মীয় সংলাপ কমিশনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন ধর্মের প্রায় ১০০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। সভার মূলসুর ছিল-‘এসো ধর্মে-ধর্মে, মানুষে-মানুষে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধন সৃষ্টি করি’।
পবিত্র কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে সভার সূচনা হয়। অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আন্তঃধর্মীয় সংলাপ কমিশনের পক্ষে সিস্টার রেবা ডি কস্তা, আরএনডিএম।
সভায় ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আন্তঃধর্মীয় সংলাপ কমিশনের সভাপতি আর্চবিশপ বিজয় এন. ডি’ক্রুশ বলেন, ‘সেতুবন্ধন সৃষ্টি করতে আমরা সবাই আহূত। প্রত্যেক ধর্মেই মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে দেখা হয়েছে। আল্লাহ চান, আমরা সবাই মঙ্গল করি এবং ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করি।’
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ধর্মেই শান্তি ও সম্প্রীতির উপাদান রয়েছে। ধর্মের মূল শিক্ষা হলো ন্যায়সংগত কাজ করা, বিনম্রভাবে চলা এবং গভীরভাবে ভালোবাসা।’
আর্চবিশপ বিজয় আরও বলেন, ‘ঈশ্বর প্রেম, প্রেমই ঈশ্বর।’ তিনি প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘সব ধর্ম হলো ঈশ্বরের কাছে যাওয়ার পথ।’
ইসলাম ধর্মের আলোকে বক্তব্য দেন মাওলানা মোহাম্মদ জাকির হোসেইন। তিনি বলেন, ‘ইসলাম হচ্ছে শান্তি, নিরাপত্তা ও আত্মসমর্পণ। ইসলাম সকলের জন্য মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। সব মানুষ আদমসন্তান। সবার উদ্দেশ্য শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।’
সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনা সনদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা ন্যায় ও ভালো কাজে পরস্পরকে সহায়তা কর। আমরা যেন হিংসা-বিদ্বেষ না করি, অতিরিক্ত লোভ বর্জন করি এবং প্রত্যেক ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই।’
সনাতন ধর্মের আলোকে স্বামী দেবাধিআনন্দ বলেন, ‘আমরা বাইরে সম্প্রীতি খুঁজি। কিন্তু সম্প্রীতি রয়েছে আমাদের অন্তরে, নিজের ঘরে। অন্তরের গভীরে খুঁজলে সেই একতার সন্ধান পাওয়া যায়।’
বৌদ্ধ ধর্মের আলোকে সত্যপ্রিয় থের বলেন, ‘শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগে নিজের মধ্যে শান্তভাব আনতে হবে। পৃথিবীতে বহু সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করবে। কিন্তু আমি যেন কারও পতনের কারণ না হই।’
পবিত্র ক্রুশ ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত ফাদার উজ্জ্বল লিনুস রোজারিও বলেন, ‘অন্য ধর্মের অনুসারীদের সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার পরিবেশে। সংলাপই পথ, সহযোগিতাই আচরণের নীতি, আর পারস্পরিক বোঝাপড়াই হলো পদ্ধতি ও মানদণ্ড।’
আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আয়োজিত এ সভায় বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা নিজেদের বক্তব্য ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
পরিশেষে ফাদার কাকন লুক কোড়াইয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।সূত্র: আরভিএ