রাজধানীর গণপরিবহনে নারীর যাতায়াত এখনও অনিরাপদ, অস্বস্তিকর ও হয়রানিপূর্ণ। শুধু আলাদা নারী বাস চালু করলেই এই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন সামগ্রিকভাবে নিরাপদ, মানবিক ও নারীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ‘গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা ও অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ) বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প ও বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সভায় গবেষণা জরিপের তথ্য উপস্থাপন করেন ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ও প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম। বক্তব্য দেন নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু, ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মশিউর রহমান, সাবেক নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ-উজ-জামান খান, গণপরিবহন গবেষক সাইফুল আলম প্রমুখ।
নাসিমুন হক আরা মিনু বলেন, গণপরিবহন সবার জন্য হলেও বাস্তবে নারীকে প্রতিদিন ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। বাসে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে যৌন হয়রানির মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। দেশের উন্নয়নে নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিরাপদ গণপরিবহন জরুরি। প্রতিটি বাসে অভিযোগ নম্বর, আচরণবিধি ও নারীদের হয়রানির শাস্তি দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে।
ড. মশিউর রহমান বলেন, নারীর জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। নারী চালক বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে দক্ষ নারী চালকের অভাব এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন বড় চ্যালেঞ্জ।
নীলিমা আখতার বলেন, নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নারী যাত্রীদের চলাচল, সমস্যা ও যাত্রীচাপ বিষয়ে সমন্বিত তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।
অধ্যাপক ড. আসিফ-উজ-জামান খান বলেন, নারীরা শুধু বাসের ভেতর নয়; বাসস্টপে যাওয়া, বাসে ওঠানামা এবং বাসা পর্যন্ত ফেরার পুরো পথেই অনিরাপত্তার মধ্যে থাকেন।