প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ মানবাধিকার, নৈতিকতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে ভিত্তি করে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence-AI) শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। বর্তমান সরকার দেশের ডিজিটাল নীতি ও আইনকে সময়োপযোগীভাবে সংস্কার করছে, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাকে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানো যায় এবং একই সঙ্গে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়। চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত "World Artificial Intelligence Conference (WAIC) 2026"-এর আয়োজনে "High-Level Meeting on Global AI Governance"-এ বাংলাদেশের পক্ষে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়।
"উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এআই অংশীদারিত্ব (AI Partnership for a Brighter Future)" প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, সমষ্টিগত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং বৈশ্বিক এআই শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
১৮ জুলাই, শনিবার চীনের সাংহাই শহরে এই উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। চার দিনব্যাপী এই বৈশ্বিক সম্মেলনটি ১৭ থেকে ২০ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সভায় বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, শতাধিক দেশের মন্ত্রী ও তাঁদের প্রতিনিধিদল, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান, শিল্পখাতের প্রতিনিধিসহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিনিময় করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নীতি প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, সরকারি খাতে AI ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়ন, দায়িত্বশীল তথ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, AI-ভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিকেন্দ্রীভূত AI Centre of Excellence প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।"
মন্ত্রী বৈশ্বিক AI শাসনব্যবস্থার জন্য চারটি মৌলিক অগ্রাধিকার-নিরাপত্তা, সমতা, অভিযোজন সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, "উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি স্থানান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্যের সার্বভৌমত্ব এবং ন্যায্য প্রযুক্তি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ যেন কেবল প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের নয়, মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তির প্রতিফলন হয়-বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যেই বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানায়।"