ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিক্ষোভ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ

প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png নিজস্ব প্রতিবেদক
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জনসেবার মানের অবনতির প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ থেকে বিভিন্ন শহরে সহিংসতা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পাশাপাশি একপর্যায়ে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে, যা কয়েক দশকের মধ্যে দেশটির অন্যতম গুরুতর সহিংস পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

বিবিসি জানিয়েছে, ফরাসি সরকার এ পরিস্থিতিকে ‘সহিংসতার বৃদ্ধি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে সরকারি হিসাব ও শ্রমিক সংগঠনের পরিসংখ্যানে পার্থক্য রয়েছে।

বিভিন্ন শহরে সরকারি ভবন ও দোকানে হামলা
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাখ লাখ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলে অংশ নিলেও কিছু বিক্ষোভকারী সরকারি ভবন, বিলাসপণ্যের দোকান ও সুপারমার্কেটে হামলা ও লুটপাট চালায়। পুলিশের গাড়ি ও কর্মকর্তাদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে।

মধ্য-পশ্চিম ফ্রান্সের লিমোজ শহরের সিটি হলে আগুন দেওয়া হয়। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মার্সেই শহরে কালো পোশাক পরা বিক্ষোভকারীরা সিটি হলে ঢুকে দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকে। একই অঞ্চলের লিওঁ শহরে নগরীর পর্যটন দপ্তরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। লিমোজের সিটি হলের আগুন ছড়িয়ে পড়ার একপর্যায়ে ভবনটির ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে।

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান
রাজধানী প্যারিসে সন্ধ্যার দিকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং শহরের কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। 

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ঁ ল্যকরনু জানিয়েছেন, সহিংসতায় অন্তত ১৫০ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সহিংসতার মাধ্যমে সরকারকে ভীত বা আতঙ্কিত করা যাবে না। আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের সহিংসতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রায় ১২০০ জন গ্রেপ্তার, অংশগ্রহণের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ
সন্ধ্যায় প্যারিসের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শনের সময় ল্যকরনু জানান, বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় প্রায় ১২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লোঁরা নুনেজের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। তবে জাতীয় শ্রমিক সংগঠন সিজিটি ইউনিয়নের দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। 

প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রত্যয় জানিয়েছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল করতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানো মানুষদের বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

ইউরোপের অন্য দেশেও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিক্ষোভ
ফ্রান্সের পাশাপাশি শনিবার বেলজিয়াম, পর্তুগাল ও ইতালিতেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। তবে এসব দেশের বিক্ষোভ ফ্রান্সের তুলনায় ছোট পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়। 

অন্যদিকে, আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং শিক্ষার নিম্নমানের প্রতিবাদে সমাবেশ করেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয়, জনসেবার মান এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে মানুষের অসন্তোষ যে বাড়ছে, এসব বিক্ষোভে তার প্রতিফলন দেখা গেছে।
সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, এপি

image

আপনার মতামত দিন