বিশ্বের সবচেয়ে জটিল ও দুরূহ সমস্যার সমাধান খুঁজতে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষায়িত কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। গত বৃহস্পতিবার দেশটির মোরেটন বে এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুগান্তকারী প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসাবিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রযুক্তি। এই উদ্যোগ বিশ্ব প্রযুক্তি অঙ্গনে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন অস্ট্রেলিয়াকে বেছে নেওয়া হলো
জনসংখ্যার দিক থেকে তুলনামূলক ছোট দেশ হলেও কোয়ান্টাম পদার্থবিদ ও গবেষকদের উপস্থিতির দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম অগ্রগামী দেশ। দক্ষ মানবসম্পদ ও শক্তিশালী গবেষণা পরিবেশের কারণেই দেশটিকে এ প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
প্রকৌশলগত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
প্রকল্পে যুক্ত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘সাইকোয়ান্টাম’-এর অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী ভিক্টর পেং বলেন, বাস্তব জীবনের জটিল সমস্যার সমাধানে সক্ষম একটি কার্যকর কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করা বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ। তবে মোরেটন বে শহরের উন্নত অবকাঠামো ও সহায়ক পরিবেশ এই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বিজ্ঞানবিষয়ক মন্ত্রী টিম আয়ারস প্রকল্পটিকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি অস্ট্রেলিয়াতেই উদ্ভাবিত হবে এবং একই সঙ্গে উচ্চমানের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
৯৪০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ
প্রকল্প বাস্তবায়নে অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এবং কুইন্সল্যান্ড রাজ্য সরকার যৌথভাবে ৯৪ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার (প্রায় ৯৪০ মিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ দিয়েছে। এই বিপুল বিনিয়োগ কোয়ান্টাম প্রযুক্তি উন্নয়নে দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: সাইকোয়ান্টাম, বিজনেস নিউজ অস্ট্রেলিয়া