অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জন টার্নাস। মঙ্গলবার থেকেই বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দেখা গেল তাঁকে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো টিম কুকের ১৫ বছরের সিইও-পর্ব। কুকের নেতৃত্বে আইফোনের বিপুল সাফল্যের হাত ধরে অ্যাপলের বাজারমূল্য বেড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
এআই বিপ্লবের সময়ে নতুন নেতৃত্ব
এমন এক সময়ে অ্যাপলের দায়িত্ব নিয়েছেন টার্নাস, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে দ্রুত পরিবর্তন আনছে। ২০০৭ সালে স্টিভ জবসের প্রথম আইফোন বাজারে আসার পর প্রযুক্তি খাতে এআইয়ের মতো এত বড় পরিবর্তন আর দেখা যায়নি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে নতুন সিইওর জন্য এআই প্রতিযোগিতায় অ্যাপলের অবস্থান শক্তিশালী করা হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
এআইয়ের দৌড়ে অ্যাপলের যাত্রা অবশ্য খুব একটা মসৃণ হয়নি। প্রায় দুই বছর আগে একাধিক এআই ফিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সময়মতো সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট সিরিকে আরও শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান করে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একাধিকবার সমস্যায় পড়তে হয়েছে অ্যাপলকে।
সিরি ও নতুন এআই সুবিধায় জোর
চলতি বছর অবশ্য এআই নিয়ে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে অ্যাপল। সিরিতে একাধিক আপগ্রেডের পাশাপাশি নতুন এআই সুবিধার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা বজায় রেখে দৈনন্দিন কাজে এআইকে আরও কার্যকর করে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে অ্যাপল। তবে হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা টার্নাসকে এবার সফটওয়্যার ও এআই খাতেও নেতৃত্বের সক্ষমতা দেখাতে হবে।
প্রযুক্তি উন্নয়নের পাশাপাশি অ্যাপলের ব্যবসা, সরবরাহব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও সামলাতে হবে নতুন সিইওকে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শুল্ক ও বাণিজ্যনীতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অ্যাপলের বিশাল উৎপাদনব্যবস্থা থাকায় নতুন সিইওর অন্যতম বড় দায়িত্ব হবে এসব নীতির প্রভাব মোকাবিলা করা। এ ক্ষেত্রে টিম কুকের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা টার্নাসকে সহায়তা করতে পারে।
প্রথম বড় পরীক্ষা আইফোন লঞ্চ
সিইও পদ ছাড়লেও অ্যাপল থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন না টিম কুক। তিনি কোম্পানিটির নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এদিকে অ্যাপল ওয়াচ, এয়ারপডস ও অ্যাপল ভিশন প্রোর মতো জনপ্রিয় পণ্যের উন্নয়নের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন জন টার্নাস। এবার তাঁর সামনে আরও বড় পরীক্ষা।
আগামী সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার কুপার্টিনোয় অ্যাপলের সদর দপ্তরে নতুন আইফোন উন্মোচনের কথা রয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই নতুন সিইও হিসেবে টার্নাসের প্রথম বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। সূত্র: রয়টার্স, দ্য ভার্জ