অ্যাপশিট ব্যবহার করে ৩০ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক

প্রকাশ: সোমবার, ০৪ মে, ২০২৬
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png নিজস্ব প্রতিবেদক
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল নিরাপত্তায় নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে ‘অ্যাকাউন্ট ডাম্পলিং’ নামের এক কৌশল। গুগলের অ্যাপশিট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভিয়েতনামভিত্তিক একটি চক্র প্রায় ৩০ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেছে বলে জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান গার্ডিও। সংগঠিত এই আক্রমণের মাধ্যমে দখল করা অ্যাকাউন্টগুলো পরে অবৈধ অনলাইন বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

ধারাবাহিক ও সংগঠিত সাইবার অপরাধ
গার্ডিওর নিরাপত্তা গবেষক শেকড চেন বলেন, এটি কোনো এককালীন ফিশিং কৌশল নয়; বরং ধারাবাহিকভাবে বিকশিত একটি সাইবার অপরাধ। এতে রিয়েল-টাইম অপারেটর প্যানেল, উন্নত প্রযুক্তি এবং সুসংগঠিত বাণিজ্যিক কাঠামো ব্যবহার করা হচ্ছে।

অ্যাকাউন্ট বিক্রির বাড়তি প্রবণতা
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দখল করে বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ব্যবসা বা বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার ইতিহাস রয়েছে, সেগুলোর চাহিদা অবৈধ বাজারে বেশি।

ফিশিং ই-মেইলে আক্রমণের সূচনা
এই আক্রমণের শুরু হয় লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিং ই-মেইলের মাধ্যমে। ফেসবুকের ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টধারীদের উদ্দেশে পাঠানো এসব ই-মেইলে মেটার সাপোর্ট বিভাগের পরিচয় ব্যবহার করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, অ্যাকাউন্টে সমস্যা রয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সেটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। গুগল অ্যাপশিট প্ল্যাটফর্মের ‘নোরিপ্লাই’ ঠিকানা থেকে ই-মেইল পাঠানো হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ স্প্যাম ফিল্টার এগুলো শনাক্ত করতে পারছে না। পরে ব্যবহারকারীদের ভুয়া ওয়েবসাইটে নিয়ে গিয়ে লগইন তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

চার কৌশলে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া
গার্ডিও এ অভিযানে ব্যবহৃত চারটি প্রধান কৌশল শনাক্ত করেছে। প্রথমত, নেটলিফাইয়ে হোস্ট করা ভুয়া ফেসবুক সাপোর্ট পেজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য-যেমন জন্মতারিখ, ফোন নম্বর ও পরিচয়পত্রের ছবি-সংগ্রহ করা হয়, যা পরে টেলিগ্রাম চ্যানেলে পাঠানো হয়। দ্বিতীয়ত, ‘ব্লু ব্যাজ’ যাচাইয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভেরসেলে হোস্ট করা ভুয়া নিরাপত্তা যাচাই পেজে নেওয়া হয় এবং সেখানে যোগাযোগের তথ্য, ব্যবসায়িক তথ্য, পাসওয়ার্ড ও টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন কোড সংগ্রহ করা হয়। তৃতীয়ত, গুগল ড্রাইভে রাখা পিডিএফ ফাইলের মাধ্যমে ভেরিফিকেশনের নির্দেশনা দেওয়া হয়; ‘ক্যানভা’ ব্যবহার করে তৈরি এসব ফাইলের মাধ্যমে পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর ব্রাউজারের স্ক্রিনশটও নেওয়া হয়। চতুর্থত, হোয়াটসঅ্যাপ, মেটা, অ্যাপল বা কোকা-কোলার মতো প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দিয়ে ব্যবহারকারীদের আস্থায় এনে হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মে নেওয়া হয়।

বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া ভুক্তভোগী
গার্ডিওর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম তিনটি কৌশলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, কানাডা, ফিলিপাইন, ভারত, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর বাসিন্দা। তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যে নিজেদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার হারিয়েছেন। সূত্র: দ্য হ্যাকার নিউজ, এনালাইটিক ইনসাইট

image

আপনার মতামত দিন