আইফোনের মজুদ ফুরিয়ে আসছে, রেকর্ড বিক্রির পরও নতুন উদ্বেগ

প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png নিজস্ব প্রতিবেদক
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত

রেকর্ড বিক্রির মধ্যেও বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপ সংকটের কারণে নতুন আইফোনের সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে অ্যাপল। কোম্পানির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আইফোন ও ম্যাকের বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে যথাক্রমে ২২ ও ২৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে এ সাফল্যের মাঝেও ভবিষ্যতের উৎপাদন নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্টটি।

এআই চাহিদায় বেড়েছে মেমোরি চিপ সংকট
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তারের ফলে বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তি খাতে ‘র‍্যামাগেডন’ নামে পরিচিত এ পরিস্থিতিতে এআই অবকাঠামোর জন্য বিপুল পরিমাণ মেমোরি চিপ ব্যবহৃত হওয়ায় অন্যান্য ডিভাইস নির্মাতারা পর্যাপ্ত চিপ সংগ্রহ করতে পারছেন না। এর ফলে বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং দামও বাড়ছে।

উৎপাদন ও দামে প্রভাবের আশঙ্কা
চিপ সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে অ্যাপলের ওপরও পড়েছে। গত মাসে কোম্পানিটি কয়েকটি ডিভাইসের দাম ২০ শতাংশ বা তারও বেশি বাড়িয়েছে। যদিও এখনো আইফোনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে, তবে আগামী সেপ্টেম্বরে নতুন মডেল উন্মোচনের সময় মূল্য বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক জানিয়েছেন, উচ্চ চাহিদা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় চিপের অভাবে পর্যাপ্ত ফোন উৎপাদন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

সংকট মোকাবিলায় যন্ত্রাংশ মজুত
সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে অ্যাপল বর্তমানে নজিরবিহীন পরিমাণে যন্ত্রাংশ ও পণ্য মজুত করছে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে যেখানে তাদের মজুত পণ্যের মূল্য ছিল ৫৭০ কোটি ডলার, তা এখন বেড়ে ১,১১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত মজুত না রাখার নীতির জন্য পরিচিত টিম কুকও এবার স্বীকার করেছেন, সরবরাহ চেইনের সীমাবদ্ধতা মোকাবিলায় এ পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ ও প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস
রেকর্ড আয় ও বিক্রির পরও টিম কুকের সতর্কবার্তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে সরবরাহ সংকট কোম্পানির আয় কমিয়ে দিতে পারে-এ আশঙ্কায় অ্যাপলের শেয়ারের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমে গেছে। এছাড়া আগামী প্রান্তিকের জন্য কোম্পানি ৯ থেকে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর প্রায় ১৬ শতাংশ স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, অ্যাপল ইনভেস্টর রিলেশনস 

image

আপনার মতামত দিন