শেয়ার বাজারে মাত্র কয়েক দিন আগে যাত্রা শুরু করেই বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে ইলন মাস্কের মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘স্পেসএক্স’।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) লেনদেনের একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য বা ভ্যালুয়েশন অবিশ্বাস্য গতিতে বেড়ে ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি (২.৯ ট্রিলিয়ন) মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। এর ফলে ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজনকে পেছনে ফেলে সাময়িকভাবে বিশ্বের পঞ্চম শীর্ষ মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয় স্পেসএক্স। এমনকি একপর্যায়ে তা প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফটকেও প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিল।
আইপিওর পর বাজারমূল্যে রেকর্ড বৃদ্ধি
গত শুক্রবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ কোটি ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। ঐতিহাসিক এই প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও-র মাধ্যমে বাজারে আসার সময় স্পেসএক্সের বাজারমূল্য ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলার। সেখান থেকে মাত্র চার দিনে কোম্পানির শেয়ারের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়ে।
কারসর অধিগ্রহণ ও নতুন চুক্তির প্রভাব
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মঙ্গলবার স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির কোডিং প্রতিষ্ঠান ‘কারসর’ কিনে নেওয়ার ঘোষণার পরপরই শেয়ারের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। কারসর-কে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে স্পেসএক্স প্রায় ৬ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের শেয়ার ব্যবহার করছে। এর পাশাপাশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’ এবং ‘গুগল’-এর সঙ্গে স্পেসএক্সের ডেটা সেন্টার বা কম্পিউট লিজ দেওয়ার চুক্তিও বিনিয়োগকারীদের দারুণভাবে আকর্ষিত করেছে।
লোকসানের মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা
আশ্চর্যের বিষয় হলো, গত বছর যেখানে আমাজন ৭২ হাজার কোটি ডলার বিক্রির বিপরীতে ৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলার নিট লাভ করেছে, সেখানে স্পেসএক্স ১৮-এরও বেশি বিলিয়ন ডলার আয়ের বিপরীতে উল্টো ৪৯০ কোটি ডলার লোকসান গুনেছে। তা সত্ত্বেও ইলন মাস্কের ট্রিলিয়ন ডলারের এআই সাম্রাজ্য গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করে বিনিয়োগকারীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন।
সীমিত শেয়ার ও বাজারের অস্থিরতা
অবশ্য স্পেসএক্স তাদের মোট শেয়ারের মাত্র ৪ শতাংশ জনসাধারণের লেনদেনের জন্য উন্মুক্ত করায় পুঁজিবাজারে এর দাম দ্রুত ওঠানামা বা তীব্র উদ্বায়ী ভাব তৈরি করছে। মঙ্গলবার নাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জে স্পেসএক্সের প্রায় ৩০ কোটি শেয়ার হাতবদল হয়। দিন শেষে শেয়ারের দাম কিছুটা কমলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি (২.৬ ট্রিলিয়ন) ডলারে এসে স্থির হয়। তবে এই অভাবনীয় উত্থান বিশ্ব প্রযুক্তি ও শেয়ার বাজারে ইলন মাস্কের একক প্রভাবকে আরও একবার প্রমাণ করল। সূত্র: দ্য ভার্জ, টেক রাডার