দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ইন্টারনেট বন্ধের অভিযোগ

প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png নিজস্ব প্রতিবেদক
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংসদ ভবন অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দফায় দফায় লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভের ছবি ও তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপির পক্ষ থেকে শেয়ার করা ছবি ও ভিডিওতে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার বার্তা দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। দলটির অভিযোগ, বিক্ষোভের খবর, ছবি ও ভিডিও তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারা আরও দাবি করে, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করা গেলেও মানুষের প্রতিবাদের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না।

২০ জুলাই, সোমবার বার্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে সংসদ ভবন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সংসদ ভবনের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণে রাখা হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‍্যাফ) মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের সরাতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের পাশাপাশি অনেককে আটক করে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে যন্তর মন্তর এলাকা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ রাস্তায় অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যায়।

এর আগে দিল্লি পুলিশ জানায়, সংসদ ভবন অভিমুখে মিছিল বা সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। দিল্লি পুলিশ ১৯ জুলাই এক্সে (সাবেক টুইটার) জানায়, অনুমোদিত যন্তর মন্তর এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও মিছিল, শোভাযাত্রা বা বিক্ষোভের অনুমতি নেই। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও সকাল থেকেই যন্তর মন্তর এলাকায় বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারী জড়ো হন। 

এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে সংস্কারের দাবি। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকা’ মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের পর গত মে মাসে ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল উদ্যোগ হিসেবে অভিজিৎ দীপ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই দলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে এবং বিভিন্ন বিরোধী রাজনীতিক, অধিকারকর্মী, শিল্পী ও ক্রীড়াবিদদের সমর্থন পায়।

গত দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপ জুনে ভারতে ফিরে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তিনি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসসহ অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানান।

পরে আন্দোলনে যোগ দেন অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি ২৮ জুন থেকে যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে গত শনিবার পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সোমবার হাসপাতাল থেকে হাতে লেখা এক বার্তায় ওয়াংচুক বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা ও প্রশ্নফাঁসের দায় সরকার স্বীকার না করা পর্যন্ত অথবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা বিষয়টি সংসদে উত্থাপনের নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন।

image

আপনার মতামত দিন