রোগ নির্ণয়ের আধুনিক পরীক্ষাপদ্ধতি এমআরআইয়ের (চৌম্বক অনুরণনভিত্তিক চিত্রায়ণ) আদলে পুরো শরীর স্ক্যান করার নতুন প্রযুক্তি তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ছবি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মিডজার্নি।
‘মিডজার্নি স্ক্যানার’ নামের এই প্রযুক্তি মাত্র ৬০ সেকেন্ডে পুরো শরীর স্ক্যান করতে সক্ষম বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে এটি এমআরআইয়ের কাছাকাছি মানের ফলাফল দিতে পারে। বর্তমানে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
স্ক্যানারটি যেভাবে কাজ করে
মিডজার্নির তথ্য অনুযায়ী, স্ক্যানের সময় রোগীকে একটি বিশেষ মঞ্চের ওপর দাঁড়াতে হবে। এরপর মঞ্চটি ধীরে ধীরে পানির নিচে নামবে এবং একটি বৃত্তাকার কাঠামোর মধ্য দিয়ে অতিক্রম করবে। ওই কাঠামোতে প্রায় পাঁচ লাখ সংবেদনশীল সেন্সর রয়েছে। প্রতিটি সেন্সর একই সঙ্গে শব্দতরঙ্গ প্রেরণ ও গ্রহণ করতে পারে। এসব সেন্সর শরীরের বিভিন্ন অংশে উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দতরঙ্গ পাঠিয়ে ফিরে আসা সংকেত সংগ্রহ করবে।
ত্রিমাত্রিক শরীরের মানচিত্র তৈরি
সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে স্ক্যানারটি শরীরের পেশি, চর্বি, হাড় এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বিস্তারিত ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করতে পারে। ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশের গঠন ও সম্ভাব্য সমস্যার চিত্র আরও স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব হবে।
অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
স্ক্যানারটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছে আলট্রাসাউন্ড প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বাটারফ্লাই নেটওয়ার্ক। এতে ৪০টি অত্যাধুনিক আলট্রাসাউন্ড-অন-চিপ চিত্রায়ণ মডিউল ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, স্ক্যানারটি প্রতি সেকেন্ডে এত বিপুল তথ্য সংগ্রহ করে যে তা দিয়ে প্রায় ৫০০ ঘণ্টার উচ্চমানের ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। স্ক্যানের মূল চিত্রের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় বিশ্লেষণ করা ফলাফলও দেখা যাবে, যা রোগ শনাক্তকরণকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে পারে।
বিকিরণমুক্ত ও নিরাপদ ব্যবস্থা
মিডজার্নি জানিয়েছে, এই স্ক্যানার শব্দতরঙ্গ ও পানির সাহায্যে কাজ করে। ফলে এতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর বিকিরণ ব্যবহৃত হয় না। এ কারণে প্রযুক্তিটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকিরণমুক্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে পারে।
চিকিৎসা প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা
মিডজার্নির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড হোলজ বলেন, উদ্যোগটি কিছুটা ব্যতিক্রমী হলেও চিকিৎসা প্রযুক্তির জগতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। তাঁর মতে, উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দতরঙ্গভিত্তিক এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে সক্ষম হতে পারে। সূত্র: দ্য ভার্জ, বিজনেস ইনসাইডার