সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সফোস সম্প্রতি ২০২৬ সালের সফোস অ্যাক্টিভ অ্যাডভারসারি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছরে সংঘটিত সাইবার ঘটনার মধ্যে প্রায় ৬৭ শতাংশই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আইডেন্টিটি-ভিত্তিক হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল। অর্থাৎ, হামলাকারীরা মূলত চুরি হওয়া ক্রেডেনশিয়াল, দুর্বল বা নিষ্ক্রিয় মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (MFA) এবং ঝুঁকিপূর্ণ আইডেন্টিটি সিস্টেমকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে প্রবেশ করছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাইবার হামলা শনাক্ত করতে গড়ে সময় কমে তিন দিনে নেমে এলেও হামলাকারীরা নেটওয়ার্কের ভেতরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা সিস্টেমে প্রবেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাক্টিভ ডিরেক্টরিতে পৌঁছে যাচ্ছে। এছাড়া র্যানসমওয়্যার আক্রমণ ও তথ্য চুরির বেশিরভাগ ঘটনাই অফিস সময়ের বাইরে ঘটে, যখন পর্যবেক্ষণ তুলনামূলক কম থাকে। নিরাপত্তা ঝুঁকির দিক থেকে দেখা যায়, আইডেন্টিটি কম্প্রোমাইজের ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। এর মধ্যে চুরি হওয়া লগইন তথ্য, ব্রুট-ফোর্স আক্রমণ এবং ফিশিং অন্যতম। যদিও সফটওয়্যারের দুর্বলতাও আক্রমণের একটি মাধ্যম, তবু বর্তমানে হামলাকারীরা প্রাথমিক অ্যাক্সেস পেতে বেশি নির্ভর করছে বৈধ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের ওপর।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, সাইবার অপরাধী গ্রুপের সংখ্যা ও সক্রিয়তা বাড়ছে। এর মধ্যে আকিরা (Gold Sahara) এবং কিলিন (Gold Feather) সবচেয়ে সক্রিয় র্যানসমওয়্যার গ্রুপ, যেখানে আকিরা প্রায় ২২ শতাংশ ঘটনায় জড়িত। মোট ৫১টি ভিন্ন র্যানসমওয়্যার গ্রুপ শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৪টি নতুন। অন্যদিকে লকবিট, মেডুসালকার, ফোবস এবং বিটলকার ২০২০ সাল থেকে সক্রিয় রয়েছে। এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় কোনো নতুন আক্রমণ কৌশল এখনও দেখা যায়নি। তবে জেনারেটিভ এআই ফিশিং ও সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং আক্রমণের গতি ও মান বাড়াতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সফোস বলছে, ফিশিং প্রতিরোধে MFA ব্যবহার, ইন্টারনেটভিত্তিক পরিষেবা অভ্যন্তরীণ রাখা, এজ ডিভাইসের দুর্বলতা দ্রুত প্যাচ করলে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা সম্ভব।