মহাকাশের গল্প, রোবট ও রকেট নিয়ে শিশু-কিশোরদের দিন

প্রকাশ: রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png টেকভয়েস২৪ রিপোর্ট
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার প্রতি শিশু-কিশোরদের আগ্রহ বাড়াতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ ২০২৬’। 

দিনব্যাপী এ আয়োজনে মহাকাশ নিয়ে গল্প বলা, রোবটিকস, রকেটারি, স্পেস আর্ট ও ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটিসহ নানা কার্যক্রমে অংশ নেয় দেশের বিভিন্ন স্কুলের ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৫০ জন শিশু-কিশোর।

স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) যৌথভাবে গতকাল শনিবার বিইউবিটির রূপনগর ক্যাম্পাসে এ আয়োজন করে।

আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্পেস স্টোরিটেলিং প্রতিযোগিতা। এতে প্রথম ধাপে অংশগ্রহণকারীরা মহাকাশ নিয়ে নিজেদের স্বপ্ন, ভাবনা, কল্পনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিন মিনিটের উপস্থাপনা করে। সেখান থেকে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা দ্বিতীয় ধাপে পাঁচ মিনিটের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়।

প্রতিযোগীদের ৬–৮, ৯–১১ এবং ১২–১৪ বছর বয়সী—এই তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়। দুই ধাপের প্রতিযোগিতা শেষে প্রতিটি বিভাগ থেকে পাঁচজন করে মোট ১৫ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

প্রতিযোগিতার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য ছিল বিভিন্ন হাতে-কলমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কার্যক্রম। স্পেস রোবটিকস, রোবটিকস ওয়ার্কশপ, রকেটারি ওয়ার্কশপ, স্পেস আর্ট এবং ইন্টার‌্যাকটিভ স্পেস সায়েন্স কার্যক্রমে অংশ নেয় তারা। ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে মহাকাশের বিভিন্ন অভিজ্ঞতাও নেওয়ার সুযোগ ছিল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিইউবিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শওকত আলী। তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক ও মহাকাশ গবেষক। নতুন প্রজন্মকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞানের উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। জ্ঞান অর্জন, পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও নতুন কিছু জানার আগ্রহ তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বিইউবিটির ফ্যাকাল্টি অব কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ডিন ড. মুহাম্মদ আমিনুর রহমান।

বিচারকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেসের (ইউআইটিএস) সহযোগী অধ্যাপক আল ইমতিয়াজ। তিনি প্রতিযোগীদের উপস্থাপনা, মহাকাশ নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন। ভবিষ্যতেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি কৌতূহল ধরে রাখার জন্য শিশুদের উৎসাহ দেন তিনি।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের প্রেসিডেন্ট আরিফুল হাসান অপু। তিনি বলেন, “আমরা চাই শিশুদের কাছে মহাকাশ শুধু বইয়ের একটি অধ্যায় হয়ে না থাকুক। তারা মহাকাশ নিয়ে প্রশ্ন করুক, নিজের মতো করে ভাবুক, গল্প বলুক, রোবট তৈরি করুক, রকেট নিয়ে জানুক এবং ভবিষ্যতের পৃথিবী ও মহাকাশকে কল্পনা করুক। আজকের এই শিশুদের মধ্য থেকেই হয়তো একদিন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, গবেষক কিংবা মহাকাশচারী তৈরি হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও বিচারকদের সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়। তিনটি বয়সভিত্তিক বিভাগের ১৫ জন বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হয় মেডেল।

আয়োজকেরা জানান, ‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ’ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; শিশুদের আনন্দের সঙ্গে মহাকাশবিজ্ঞান শেখা, নিজেদের ভাবনা প্রকাশ এবং হাতে-কলমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম।

আয়োজনে টেকনোলজি ও এআই পার্টনার হিসেবে ছিল রাইজ আপ ল্যাবস এবং পেমেন্ট পার্টনার হিসেবে ছিল সূর্যপে। অতিথি, বিচারক, স্বেচ্ছাসেবক, অভিভাবক ও অংশগ্রহণকারীদের সহযোগিতায় আয়োজনটি সম্পন্ন হয়। পুরস্কার বিতরণ ও গ্রুপ ছবি তোলার মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী এ আয়োজন।

image

আপনার মতামত দিন