শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেছেন, ‘‘এবার ঈদে পোশাক শ্রমিকরা হয়তো বেতন-বোনাসের পুরোটা পায়নি, কেউ কেউ আংশিক পেয়েছেন। আবার কেউ কেউ পুরোটা পেয়েছেন। তবে, কোনো শ্রমিক কিন্তু বেতন-বোনাসের দাবিতে রাস্তায় নামেনি বা রাস্তা অবরোধ- ধর্মঘট করেননি।’’ দেশের বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলকে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব বলেন, ‘‘রেমিট্যান্সের পরেই পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে আমাদের সবচেয়ে বেশি মুদ্রা অর্জন হয়। আমাদের মোট রপ্তানির ৮৪ শতাংশ পোশাক রপ্তানির মাধ্যমেই অর্জিত হয়। বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয়তম দেশ। আমাদের পোশাক ইউরোপ ও আমেরিকার মতো দেশগুলোতে রপ্তানি হচ্ছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘গত ৫ আগস্টের পর একটি মহল পোশাক খাতকে টার্গেট করেছিল, পোশাক খাতে যদি অস্থিরতা তৈরি হয়। আমাদের রপ্তানি যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আমাদের অর্থনীতির উপর একটা চাপ পড়বে। আরেকটা বিষয় হলো শ্রমিকরা বেকার হয়ে যাবে। তাহলে আইনশৃঙ্খলা বলেন, আর অর্থনীতি বলেন, এগুলোতে স্থবিরতা নেমে আসবে। একারণেই পোশাক খাতকে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতার জন্য হয়তো কোনো মহল টার্গেট করেছিল। আসলে উপদেষ্টা মন্ডলীর সবাই এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঐকান্তিক নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রতিটা বিষয় হ্যান্ডেল করেছি।’’
এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আসলে মালিকদের পক্ষ না, আমরা আসলে শ্রমিকদের পক্ষ। শ্রমিকদের পক্ষ হয়েই পোশাক খাতে শ্রমিকদের অধিকারসহ অন্যান্য বিষয় রয়েছে ট্রেড ইউয়িয়নসহ এই বিষয়গুলো আমরা ফোকাস করছি। সেপ্টেম্বরে এবং অক্টোবরে পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের মাঝে যে অস্থিরতা ছিল আমরা শ্রমিক এবং মালিক পক্ষ মিলে ১৮ দফা এগ্রিমেন্ট করেছি এবং আইএলওর যে ম্যান্ডেট আছে এবং ইইউর অ্যাকশন প্লান আছে এবং আইএলওর রোড ম্যাপ আছে এগুলো মিলেই আমরা যে কাজটা করছি পোশাক খাতের যে অস্থিরতা আছে সেটা অনেকটাই আমরা নিস্পত্তি করতে পেরেছি।’’
‘‘গত ১৫ বছরে বিজিএমইএর যারা নেতৃবৃন্দ বলেন বা ওই সময়ে সরকারের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এটার সাথে জড়িত ছিলেন। তাদের অনেকেই পালিয়ে গেছে, অনেকে কোথায় আছে আমরা জানি না আবার অনেকে বিভিন্ন মামলা নিয়ে জেলের মধ্যে আছেন। এই যে বড় বড় মালিকরা যারা নিয়ন্ত্রক করতো, যেহেতু তারা এখন সারপেক্সে নেই, নিশ্চই তাদের ফ্যাক্টরিতে এখন সমস্যা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই তারা বেতন বোনাস দিতে পারছে না। তাদের ফ্যাক্টরির ব্যাংক হিসাব সিজ হয়ে আছে, তাদের রপ্তানি কমে গেছে। শ্রমিকদের বেতন ভাতা না দিলে অসন্তোস সৃষ্টি হচ্ছে। সেখানে প্রতিটা বিষয় আমরা ওয়ান-টু-ওয়ান হ্যান্ডেল করেছি। বেক্সিমকোর মতো ফ্যাক্টরি যেখানে ৪০ হাজার শ্রমিক সেটাও আমরা সমাধান করেছি। বেক্সিমকোসহ অন্য কোনো কারখানার শ্রমিকরা তাদের বেতন বোনাসের জন্য রাস্তা অবরোধ করে রাখেনি। সবাই নিরাপদে বাড়িতে ঈদ করতে গেছেন।’’
শ্রম সচিব বলেন, ‘‘আমাদের এখানে এতো বিশৃঙ্খলার পরেও অনেকগুলো ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক বিশৃঙ্খলা ছিল, অনেক অসন্তোস ছিল। রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল, গাড়ি পোড়ানো হয়েছে এবং অনেক ফ্যাক্টরিতে আগুন দেওয়া হয়েছিল। তারপরে আমাদের রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশ। আমরা সবাই মিলে যদি কাজ করি তাহলে গ্রোথ আরো বাড়বে।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমাদের নতুন সরকারের ইকোনোমিক যে অ্যাক্টেভিটি আছে, আমাদের রিজাভ বলেন সেটা কিন্তু পোশাক রপ্তানির মাধ্যমেই আরো সুন্দরভাবে করতে পারবো।’’
‘‘যে ফ্যাক্টরিগুলো ভালো এবং চালু রয়েছে সেখানে কিন্তু অডার বাড়ছে। আমরা বায়ারদের সাথে মিটিং করছি। ইউএস থেকে বড় টিম আসছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন প্রতিনিয়ত আসছে। ইনডিভিজ্যুয়াল কান্ট্রি হিসেবে বিভিন্ন দেশের বায়াররা আসছে। আমাদের ফ্যাক্টরির পরিবেশও অনেক ভালো। শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়গুলোও তারা খোঁজখবর রাখছেন। যে ফ্যাক্টরিগুলোর সমস্যা হচ্ছে সেগুলো কিন্তু বিগত সরকারের আমালের যার প্রভাবশালী ছিল তাদের। যে ফ্যাক্টরিগুলোতে সমস্যা হচ্ছে সেগুলো কিন্তু সাভার, আশুলিয়া, গাজিপুর, নারায়ণগঞ্জ বিশেষ করে যেখানে পোশাক ফ্যাক্টরির কনসালটেশন বেশি সেই এলাকার চারপাশে ছড়িয়ে যাচ্ছে। এমনও হচ্ছে ওই ফ্যাক্টরির শ্রমিকরা সেখানে একটা ইন্ধন দিচ্ছে কেউ কেউ। ইন্ধন দিয়ে তারা যেটা করতে চাচ্ছে যে, ভালো ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকরা কাজ করছে তাদের বাধা দিচ্ছে। যেখানে শ্রমিকরা নিজ থেকে কাজ করতে চাচ্ছে সেখাবে বাধা শুধু না, সেই ফ্যাক্টরিতে হামলা করছে, আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। তাহলে নি:সন্দেহে বলা যায় যারা এসব কাজ করছে তাদের পিছনে একটা মহল কাজ করছে।’’ বললেন এ এইচ এম সফিকুজ্জান।