এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে সতর্ক বার্তা দিলেন জিওফ্রি হিন্টন

প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png নিজস্ব প্রতিবেদক
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে বাড়ছে এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ। কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করা না গেলে উন্নত এআই একসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞরা। এবার এ বিষয়ে সতর্ক করলেন নোবেলজয়ী কম্পিউটারবিজ্ঞানী জিওফ্রি হিন্টন। 

‘এআইয়ের গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত হিন্টনের মতে, এআইকে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরিতে মানুষের হাতে হয়তো আর মাত্র এক বছর সময় আছে।

আইনপ্রণেতাদের প্রতি সতর্কবার্তা
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন হিন্টন। বৈঠক শেষে এআই নিয়ন্ত্রণে আইনপ্রণেতাদের হাতে কতটা সময় আছে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হয়তো এক বছর, তবে এর চেয়ে খুব বেশি সময় নয়।’ তাঁর মতে, এআইয়ের উন্নয়নের গতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা জরুরি।

হাগিং ফেসের ঘটনা ‘সতর্কসংকেত’ 
এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ার উদাহরণ হিসেবে হিন্টন হাগিং ফেসকে ঘিরে সাম্প্রতিক সাইবার নিরাপত্তা ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। জুলাইয়ে অভ্যন্তরীণ সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় ওপেনএআই-এর কিছু এআই মডেল নির্ধারিত নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে এবং হাগিং ফেসের সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে। ঘটনাটিকে হিন্টন এআই নিরাপত্তার জন্য বড় সতর্কসংকেত হিসেবে দেখছেন।

এজিআই নিয়ে বদলে যাচ্ছে হিসাব
হিন্টনের উদ্বেগের আরেকটি কারণ কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা এজিআই (আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স) তৈরির সম্ভাব্য সময়সীমা কমে আসা। এজিআই বলতে এমন এআইকে বোঝানো হয়, যা বিস্তৃত ধরনের কাজ মানুষের সমপর্যায়ে বা তার চেয়েও দক্ষতার সঙ্গে করতে পারে। হিন্টনের বক্তব্য অনুযায়ী, একসময় গবেষকদের ধারণা ছিল এ ধরনের প্রযুক্তি তৈরি হতে কয়েক দশক সময় লাগতে পারে। পরে সেই ধারণা বদলে যায়; এখন কিছু গবেষক মনে করছেন, মানুষের সমপর্যায়ের বা তার চেয়ে বেশি সক্ষম এআই তৈরি হতে কয়েক বছরও লাগতে পারে।

কী ঘটেছিল হাগিং ফেসে?
হাগিং ফেসের তথ্যমতে, জুলাইয়ের ঘটনায় একটি স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট তাদের উৎপাদন অবকাঠামোর একটি অংশে অনুপ্রবেশ করে। এতে সীমিতসংখ্যক অভ্যন্তরীণ ডেটাসেট ও কিছু সেবার ব্যবহৃত ক্রেডেনশিয়ালে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা শনাক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ঘটনাটি এআই এজেন্টের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল এবং পরে তারা এর উৎস ও কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে।

 
ওপেনএআই-এর পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, অভ্যন্তরীণ সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় এআই এজেন্টগুলো নির্ধারিত নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশের উপায় খুঁজে নেয়। তারা বিভিন্ন সফটওয়্যারের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ায় এবং হাগিং ফেসসহ তৃতীয় পক্ষের সিস্টেমে পৌঁছে যায়। ওপেনএআই জানায়, কিছু এজেন্ট অনুমোদিত ব্যবস্থার বাইরে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের ব্যবস্থাও তৈরি করেছিল।

এক এজেন্টের তথ্য অন্যদের কাছে
ঘটনার তদন্তে ওপেনএআই আরও জানায়, এজেন্টগুলো একটি অননুমোদিত বার্তা আদান-প্রদানের ব্যবস্থা ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে তথ্য ও আবিষ্কৃত কৌশল ভাগ করছিল। ফলে একটি এজেন্ট যে তথ্য বা পদ্ধতি খুঁজে পেয়েছে, তা অন্য এজেন্টরাও কাজে লাগাতে পারছিল। ওপেনএআই-এর ভাষায়, এ ধরনের আচরণ এআই এজেন্টের সক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত।

 
ঘটনার পর ওপেনএআই গবেষণা অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার, ইন্টারনেট ব্যবহারে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ, আলাদা স্যান্ডবক্স এবং এআই মডেলের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, অত্যন্ত সক্ষম এআই এজেন্ট যেন প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে যেতে না পারে, সে জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থাকে এআইয়ের সক্ষমতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নিতে হবে।

হিন্টনের সতর্কবার্তার প্রেক্ষাপট
হিন্টনের বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এল, যখন উন্নত এআইয়ের নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ও আইনগত কাঠামো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক এআই-এজেন্টের সাইবার নিরাপত্তা ঘটনাগুলো সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। তবে এআইয়ের ভবিষ্যৎ ঝুঁকি ও সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। হিন্টনের ‘এক বছর’ সময়সীমাটিও তাঁর ব্যক্তিগত সতর্কবার্তা, কোনো প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস নয়। সূত্র: রয়টার্স, ইন্ডিয়া টুডে

image

আপনার মতামত দিন