দেশে নিবন্ধন পেয়েছে বিদ্যুচ্চালিত যত গাড়ি

প্রকাশ: সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০২৫
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png টেকভয়েস২৪  ডেস্ক
https://techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত
সরকার ২০২০ সালে প্রথম বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নিবন্ধনের অনুমতি দেয়া। এরপর ২০২১ সালের অক্টোবরে প্রথমবারের মতো একটি বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির নিবন্ধন দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। তবে পাঁচ বছরে সারা দেশে নিবন্ধিত বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯৬টিতে।

নিবন্ধিত এসব বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির মধ্যে রয়েছে ২৪৩টি মোটরসাইকেল, ৯৪টি হার্ড জিপ, ৫৪টি প্রাইভেট কার, তিনটি মাইক্রোবাস ও একটি করে ডেলিভারি ভ্যান ও অটোরিকশা।

গত পাঁচ বছরে দেশে বিদ্যুচ্চালিত মোটরযান এসেছে হাতে গোনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকা এবং আরোপিত আমদানি শুল্কের কারণে দেশে বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনের প্রসার ঘটছে না।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান খান বলেন, ‘বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি বাংলাদেশের জন্য নতুন প্রযুক্তি। এখানে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করতে মানুষের সময় লাগবে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি চার্জ করার মতো পর্যাপ্ত স্টেশন নেই, মেরামত করার জন্য প্রয়োজনীয় ওয়ার্কশপ নেই এ কারণে মানুষ বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি কিনতে আগ্রহী নয়।

সরকার ২০২৩ সালে ‘‌ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও চলাচলসংক্রান্ত নীতিমালা’ প্রণয়ন করে। এ নীতিমালার ভূমিকায় বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে সড়ক পরিবহন খাতে ব্যবহৃত যানবাহনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ ইলেকট্রিক মোটরযান ক্যাটাগরিতে রূপান্তর করা প্রয়োজন।

সরকারি নীতিমালায় ‘এক বা একাধিক মোটরের সাহায্যে চালিত মোটরযান, যার চালিকাশক্তি সেই বৈদ্যুতিক চার্জ বা সংযুক্ত ব্যাটারি’—এ ধরনের যানবাহনকে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি বা ‘‌ইলেকট্রিক মোটরযান’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এ নীতিমালায় বাইসাইকেল বা রিকশা ভ্যান ইলেকট্রিক মোটরযান হিসেবে অভিহিত হবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বিআরটিএ থেকে নিবন্ধনের জন্য মোটরযানের যেসব শ্রেণী রয়েছে, সেসব শ্রেণীর বিদ্যুচ্চালিত নিবন্ধনের যোগ্য হবে। বর্তমানে দেশের সড়ক-মহাসড়কে যেসব ব্যাটারিচালিত রিকশা, থ্রি-হুইলারের মতো যানবাহন চলাচল করছে, সেগুলো বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন হিসেবে এ সংজ্ঞায় পড়বে না বলে জানিয়েছেন বিআরটিএর কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশে সরকারিভাবে বিদ্যুচ্চালিত বাস কেনার দুটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল বিগত সরকারের আমলে। রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) মাধ্যমে ১০০ বিদ্যুচ্চালিত বাস কেনার একটি প্রকল্প নেয়া হলেও স্থগিত করা হয়েছে। বিমানবন্দর-গাজীপুর বিআরটি করিডোরের জন্য বিদ্যুচ্চালিত বাস কেনার পরিকল্পনা থাকলেও এখন কেনা হচ্ছে ডিজেলচালিত গাড়ি।

দেশে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি প্রসারের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মো. ইয়াসীন বলেন, ‘‌বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি প্রসারের কাজে সরকারের অনেকগুলো সংস্থা জড়িত। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, জ্বালানি বিভাগ পৃথকভাবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজ করেছে। বিআরটিএর দায়িত্ব শুধু এসব যানবাহন নিবন্ধন দেয়া ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ।’

image

আপনার মতামত দিন