ভারতে এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ নতুন এক ডিজিটাল দৌড় শুরু করেছে। বিশ্বের জনবহুল এই দেশে ডেটা প্রক্রিয়াকরণ ও কম্পিউটিং শক্তির চাহিদা হুহু করে বাড়ছে। সেই চাহিদা পূরণে বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানি ও দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী ব্যাপক বিনিয়োগে ঝুঁকছে। এবার সেই দৌড়ে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতের আদানি গ্রুপ।
গুগলের বিশাল এআই ডেটা সেন্টার প্রকল্প
চলতি বছরের অক্টোবর মাসে গুগল ঘোষণা করে-তারা আগামী পাঁচ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে একটি বৃহৎ এআই ডেটা সেন্টার তৈরি করবে। এটি হবে ভারতে গুগলের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। অন্ধ্র প্রদেশের বন্দরের শহর বিশাখাপট্টনমে নির্মিত এই কেন্দ্রটি শুরুতেই ১ গিগাওয়াট ক্ষমতা নিয়ে চালু হবে, যা ভারতের ডেটা সেন্টার খাতের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।
এআইয়ের জন্য কেন বিশাল ডেটা সেন্টার প্রয়োজন
এআই মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ ও চালানোর জন্য বিপুল পরিমাণ কম্পিউটিং শক্তি দরকার হয়। হাজার হাজার উচ্চক্ষমতার চিপকে একসঙ্গে যুক্ত করে বিশেষ ডেটা সেন্টার তৈরি না করলে এ কাজ করা সম্ভব নয়। ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার, স্মার্টফোনের বৃদ্ধি, ক্লাউড সেবার চাহিদা-সব মিলিয়ে ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম ডেটা বাজারে পরিণত হয়েছে। তাই এই খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও স্বাভাবিকভাবে বাড়ছে।
আদানি গ্রুপের ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা
আদানি গ্রুপের সিএফও জুগেশিন্দার সিং সম্প্রতি জানান-গুগলের এই এআই ডেটা সেন্টার প্রকল্পে আদানি কনেক্স (আদানি এন্টারপ্রাইজেস ও যুক্তরাষ্ট্রের এজকনেক্সের যৌথ উদ্যোগ) সর্বোচ্চ ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “শুধু গুগল নয়, আরও অনেক প্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।”
এ বিনিয়োগ আদানি গ্রুপকে ভারতীয় ডেটা সেন্টার ইকোসিস্টেমে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।
ভারতের দুই শীর্ষ ধনীর ডেটা সেন্টার প্রতিযোগিতা
ভারতের ডেটা বাজারে এখন দুই শীর্ষ শিল্পপতি গৌতম আদানি ও মুকেশ আম্বানি-বড় পরিসরে ডেটা সেন্টার নেটওয়ার্ক গড়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল অর্থনীতি যতই বিস্তৃত হচ্ছে, ততই ডেটা সেন্টার ভবিষ্যতের “নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র” হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
গুগলের বৈশ্বিক বিনিয়োগ
গুগল শুধু ভারতে নয়-চলতি বছর বিশ্বব্যাপী ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা বাড়াতে ৮৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এআইয়ের ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করতে শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
ভারতের প্রযুক্তি খাতের জন্য কী অর্থ বহন করে
এই বিনিয়োগগুলো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, ক্লাউড ও এআই পরিষেবার দাম কমাতে সাহায্য করবে, দেশীয় স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি খাতকে আরও এগিয়ে নেবে এবং ভারতের দক্ষিণাঞ্চলকে একটি নতুন “ডেটা হাব”-এ পরিণত করবে
ভারত দ্রুত বিশ্বের শীর্ষ এআই ও প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলোর একটিতে পরিণত হচ্ছে, আর গুগল-আদানি অংশীদারিত্ব সেই যাত্রা আরও ত্বরান্বিত করবে। সূত্র: রয়টার্স ও টেকক্রাঞ্চ।